কলমি শাক দিয়েই বানান রেস্তোরাঁ স্টাইল ‘মর্নিং গ্লোরি স্টার-ফ্রাই’
সকাল কিংবা দুপুরের খাবারে একঘেয়ে কলমি শাক ভাজি বা ঝোলের দিন এবার শেষ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় পদ ‘মর্নিং গ্লোরি স্টার-ফ্রাই’ এখন আপনি নিজের রান্নাঘরেই তৈরি করতে পারেন সাধারণ কলমি শাক দিয়ে। পুষ্টিগুণ বজায় রেখে জিভে জল আনা এই বিদেশি স্বাদ ঘরের টেবিলে আনবে এক নতুন বৈচিত্র্য।
কলমি শাক আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি লতা জাতীয় সবজি। জলাশয়ের ধারে বা সস্তায় বাজারে মিললেও এর পুষ্টিগুণ আকাশচুম্বী। তবে বাঙালির রান্নার চিরচেনা ছাঁচ থেকে বেরিয়ে থাই বা ভিয়েতনামি কায়দায় ‘ওয়াটার স্পিনাচ’ বা কলমি শাকের এই বিশেষ পদটি বর্তমানে ভোজনরসিকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। ‘মর্নিং গ্লোরি স্টার-ফ্রাই’ মূলত উচ্চ তাপমাত্রায় দ্রুত রান্না করা একটি পদ্ধতি, যা শাকের সতেজতা এবং কুড়মুড়ে ভাব (Crunchiness) অক্ষুণ্ণ রাখে।
রেস্তোরাঁগুলোতে এই পদটি বেশ চড়া দামে বিক্রি হলেও, সঠিক উপকরণ হাতের কাছে থাকলে এটি তৈরি করা পানির মতো সহজ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথাগত পদ্ধতিতে দীর্ঘক্ষণ শাক রান্না করলে এর ভিটামিন সি ও ফলিক অ্যাসিড নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ‘স্টার-ফ্রাই’ পদ্ধতিতে পুষ্টিগুণ থাকে একদম অটুট।
উপকরণ ও প্রস্তুতির কৌশল
এই রাজকীয় পদটি তৈরির জন্য খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। প্রধান উপকরণ হিসেবে লাগবে এক আঁটি তাজা কলমি শাক। তবে কাটার ক্ষেত্রে একটু ভিন্নতা আনতে হবে। শাকের পাতা ও নরম ডাঁটাগুলো ২-৩ ইঞ্চি লম্বা করে কেটে নিতে হবে।
প্রয়োজনীয় সস ও মশলা:
-
কুচানো রসুন (পরিমাণমতো বেশি হলে স্বাদ বাড়ে)
-
কাঁচামরিচ বা শুকনো মরিচ ফালি
-
সয়া সস ও অয়েস্টার সস (Oyster Sauce)
-
সামান্য চিনি এবং স্বাদমতো লবণ
-
তিল তেল বা সাধারণ সয়াবিন তেল
রান্নার আসল রহস্য লুকিয়ে আছে আগুনের তাপে। একটি বড় কড়াই বা ‘ওক’ (Wok) খুব ভালো করে গরম করে তাতে তেল দিতে হবে। ধোঁয়া ওঠা গরম তেলে রসুন ও মরিচ দিয়ে কয়েক সেকেন্ড নাড়াচাড়া করেই ধুয়ে রাখা শাকগুলো দিয়ে দিতে হবে। এরপর দ্রুত সস ও মশলা মিশিয়ে মাত্র ২-৩ মিনিট উচ্চ তাপে নাড়লেই তৈরি হয়ে যাবে ধোঁয়া ওঠা মর্নিং গ্লোরি স্টার-ফ্রাই।
কেন খাবেন এই পদ?
কলমি শাক শুধু স্বাদে নয়, স্বাস্থ্য রক্ষায়ও অতুলনীয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
এক নজরে মূল বৈশিষ্ট্য:
দ্রুত রান্না: ব্যস্ত জীবনে মাত্র ৫ মিনিটেই তৈরি করা সম্ভব।
কম তেল: ডুবো তেলে ভাজার চেয়ে এই পদ্ধতিতে তেলের ব্যবহার অনেক কম।
পুষ্টির আধার: আয়রন ও ক্যালসিয়ামের চমৎকার উৎস।
স্বাদের বৈচিত্র্য: সয়া সস ও রসুনের ফ্লেভার সাধারণ শাককেও বিলেতি আমেজ দেয়।
রন্ধনশিল্পীদের মতে, কলমি শাকের এই স্টার-ফ্রাই রান্নার সময় কখনোই কড়াই ঢাকা দেওয়া উচিত নয়। ঢাকা দিলে শাকের উজ্জ্বল সবুজ রঙ নষ্ট হয়ে কালচে হয়ে যায় এবং ডাঁটাগুলো অতিরিক্ত নরম হয়ে যায়। স্টিম বা ভাপে নয়, বরং আগুনের আঁচের ছোঁয়ায় এর আসল স্বাদ ফুটে ওঠে।
পরিশেষে বলা যায়, খাদ্যাভ্যাসে আধুনিকতা ও স্বাস্থ্যের মেলবন্ধন ঘটানো এখন সময়ের দাবি। সস্তায় পাওয়া কলমি শাককে এভাবে পরিবেশন করলে বাড়ির ছোট থেকে বড়—সবাই সানন্দে গ্রহণ করবে।





