সৌদিতে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি: দাম্মাম ও রিয়াদগামী বিমানের ফ্লাইট স্থগিত, বিপাকে হাজারো প্রবাসী
সৌদি আরবের দাম্মাম ও রিয়াদগামী রুটে আকস্মিকভাবে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সৌদি আরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক রকেট ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
একনজরে সর্বশেষ পরিস্থিতি ও মূল তথ্যসমূহ:
• কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার কারণে দাম্মামগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবরের সব ফ্লাইট বাতিল।
• সার্বিক বিমান হামলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা-রিয়াদ রুটের সব ফ্লাইট আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা।
• জেদ্দা এবং মদিনাগামী নিয়মিত ফ্লাইটগুলো পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে।
• ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে জেদ্দা বা মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছানোর পরামর্শ।
কিং ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলা ও বিমানের ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর রাতে সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে। হুতি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা এবং বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর পরপরই যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ তাত্ক্ষণিকভাবে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা থেকে দাম্মামগামী রুটের আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবরের নির্ধারিত সবকটি ফ্লাইট সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, রিয়াদ রুটের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই রুটের সব ধরনের ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে সংশোধিত যাত্রাসূচি ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত যথাসময়ে যাত্রীদের মুঠোফোনে এবং এজেন্সির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
ট্রানজিট ও বিকল্প রুটের খোঁজে বিমানের নির্দেশনা
এই সংকটের মধ্যে সাধারণ প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে বিমান কর্তৃপক্ষ কিছু বিকল্প ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দাম্মাম ও রিয়াদ রুট বন্ধ থাকলেও ঢাকা থেকে জেদ্দা ও মদিনাগামী নিয়মিত ফ্লাইটসমূহ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি চালু থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে দাম্মাম ও রিয়াদগামী যাত্রীরা আসন খালি থাকা সাপেক্ষে জেদ্দা কিংবা মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন।
সেখান থেকে তারা অভ্যন্তরীণ সড়ক বা রেলপথে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন। তবে এই সুযোগ পেতে হলে যাত্রীদের দ্রুত নিকটস্থ বিমান সেলস সেন্টার বা অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ওয়ান-ওয়ে টিকিট রি-ইস্যু বা পরিবর্তন করে নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে টিকিটের এই রদবদল এবং আসন স্বল্পতার কারণে টিকিটের জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের বুকভাঙ্গা কান্না ও চরম ভোগান্তি
এদিকে আকস্মিক এই ঘোষণার পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার টাকা খরচ করে আসা প্রবাসী শ্রমিকেরা বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন তাদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অনেকেরই ভিসার মেয়াদ আর মাত্র কয়েকদিন বাকি রয়েছে, যার ফলে সময়মতো সৌদিতে পৌঁছাতে না পারলে চাকরি হারানোর চরম ঝুঁকিতে পড়বেন তারা।
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ যদি অন্তত ১২ ঘণ্টা আগে মেসেজ বা ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানাত, তবে দূর-দূরান্ত থেকে এসে এভাবে বিমানবন্দরে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হতো না। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রবাসীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত কাউন্টার চালুর আশ্বাস দিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিমান চলাচল কবে নাগাদ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও
যে গভীর কুয়াশা রয়ে গেছে।




