বিশ্বশান্তির প্রতীক বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা, গৌরব রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে এবং এটি দেশের জন্য এক গৌরবময় অর্জন।
বুধবার আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের পতাকাতলে দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ বিশ্বশান্তির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহিদ শান্তিরক্ষীদের স্মরণ করে তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কঠিন ও প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করেও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা দক্ষতা ও সাহসিকতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা দেশের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এই অর্জনকে সমুন্নত রাখা সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত ছয় সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালনকালে আহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর দুই লাখের বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশে পরিচালিত প্রায় ৬৩টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে ৯টি মিশনে ৪ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া হাইতিতে নতুন একটি মিশনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও চলছে।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য আন্তর্জাতিক মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের এই অংশগ্রহণ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে বাহিনীর ভূমিকা জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে। শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও চেইন অব কমান্ডের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে ভবিষ্যতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের উচ্চপদস্থ সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





