অন্যান্য দেশ সংযোগ ফিচার

পাঁচ মাসেও পদায়ন হয়নি ১৪ হাজার শিক্ষকের, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন সুপারিশপ্রাপ্তরা

চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বিদ্যালয়ে পদায়ন হয়নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ ব্যাচের ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত পদায়নের দাবি জানিয়েছেন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী অবিলম্বে বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্নে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ এবং এনএসআই (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স) রিপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানান তারা। এ সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক প্রতিনিধিরা জানান, প্রায় ৯ লাখ প্রার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার লিখিত, মৌখিক ও অন্যান্য ধাপ পেরিয়ে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। কিন্তু সুপারিশের কয়েক মাস পরও তারা যোগদানের সুযোগ পাননি। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইতিহাসে চূড়ান্ত সুপারিশের পর এত দীর্ঘ সময় পদায়ন ঝুলে থাকার নজির নেই বলেও দাবি করেন তারা।

তাদের ভাষ্য, এই অনিশ্চয়তার কারণে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার পরিবার আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক সংকটে পড়েছে। অনেকেই পূর্বের চাকরি ছেড়েছেন, কেউ কেউ শিক্ষকতায় যোগদানের আশায় অন্য চাকরিতে যোগ দেননি। ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবেও অনেক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বর্তমানে বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে শিক্ষকরা বলেন, তারা কখনোই প্রশিক্ষণের বিরোধী নন। বরং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ শিক্ষক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে বলে তারা বিশ্বাস করেন। তবে চূড়ান্ত সুপারিশের পর নতুন করে মূল্যায়ন কিংবা বিধিমালাবহির্ভূত কোনো শর্ত আরোপ করা হলে তা প্রার্থীদের মধ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। তাই বিদ্যালয়ে পদায়নের পর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।

এ সময় গর্ভবতী ও সদ্য সন্তান জন্মদানকারী নারী শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রণয়নেরও আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পরই যোগদান প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এখন নতুন করে এনএসআই রিপোর্টের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, যা অতীতের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দেখা যায়নি। পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর অতিরিক্ত এই ধাপ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা কী এবং এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হবে কি না—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তারা।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের কারণে অনেক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলেও জানান তারা। এমনকি কয়েকজন শিক্ষক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলেও দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বর্তমানে তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে উল্লেখ করে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলেন, দ্রুত এই ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষককে পদায়ন করা হলে একদিকে যেমন শিক্ষক সংকট অনেকাংশে দূর হবে, অন্যদিকে হাজারো পরিবার বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষকের অবিলম্বে বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করা, এনএসআই রিপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট ও লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান এবং নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্নে নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষকরা বলেন, “আমরা রাজপথে নয়, শ্রেণিকক্ষে থাকতে চাই। দেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন ও জাতি গঠনের কাজে নিজেদের নিয়োজিত করতে চাই।”

তারা আরও সতর্ক করে বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বিধিমালাবহির্ভূত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। তাই দ্রুত পদায়নের মাধ্যমে তাদের এবং তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

প্রতিবেদক

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার