ঈদে নারী যাত্রীদের জন্য প্রতিটি ট্রেনে আলাদা কামরা বরাদ্দের নির্দেশ হাইকোর্টের
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় নারীদের ট্রেন ভ্রমণ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে এক যুগান্তকারী নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১২ মে) আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ঈদযাত্রায় প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য অন্তত একটি কামরা নির্দিষ্ট রাখতে হবে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই জনগুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন।
বাংলাদেশে উৎসবের মৌসুমে রেলভ্রমণ মানেই এক সীমাহীন যুদ্ধ। বিশেষ করে ঈদযাত্রায় ট্রেনের প্রতিটি ইঞ্চি যখন যাত্রীতে ঠাসা থাকে, তখন নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা ও শালীনতা বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির অবসান ঘটাতেই উচ্চ আদালতের এই হস্তক্ষেপ। আদালতের এই নির্দেশের ফলে এখন থেকে নারীরা ভিড়ের ঝক্কি এড়িয়ে অনেকটা নিশ্চিন্তে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
আদালতে এই সংক্রান্ত একটি সম্পূরক আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আজমল হোসেন খোকন। তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, আইন অনুযায়ী ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ আসন বা কামরা বরাদ্দের বিধান থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ ছিল নগণ্য। হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখন আইনিভাবে বাধ্য থাকবে প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য পৃথক বগি নিশ্চিত করতে।
রেলওয়ে আইনের ৬৪ ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রেনে নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক কামরার ব্যবস্থা থাকার কথা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এই আইনটি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণ সময়েও নারীরা সংরক্ষিত আসনের জন্য লড়াই করেন, আর ঈদের সময় সেই চিত্র হয়ে ওঠে আরও ভয়াবহ। গত কয়েক বছরে ট্রেন ভ্রমণে নারীদের নানাবিধ হয়রানির শিকার হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন শুনানিতে উল্লেখ করেন যে, সংবিধানে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ঈদের সময় যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ রাজধানী ছাড়ে, তখন নারীরা কামরার ভেতরে এমনকি টয়লেটে যাওয়ার মতো নূন্যতম সুযোগও পান না। এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতেই হাইকোর্ট জরুরি ভিত্তিতে এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছেন।





