রাজধানীতে এখনো পুরোনো ভাড়াতেই চলছে বাস
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে। সরকার প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাসভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বাস এখনো অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম সমন্বয় করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নতুন হারে বাসভাড়া নির্ধারণ করে জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং আন্তজেলা রুটে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হবে।
সাধারণত এমন সিদ্ধান্তের পরপরই গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে যাত্রী-শ্রমিকদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। তবে এবার রাজধানীর বিভিন্ন রুটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাবতলী, ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী বাসগুলোতে এখনো আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
ফার্মগেট থেকে মতিঝিলগামী এক যাত্রী বলেন, “ভাড়া বাড়ার খবর শুনেছিলাম। কিন্তু এখনো কন্ডাক্টর আগের মতোই ভাড়া নিচ্ছেন। বাড়তি টাকা চাইলে হয়তো সমস্যা হতো।”
একাধিক পরিবহন শ্রমিক জানান, এখনো নতুন ভাড়ার চার্ট অনেক বাসে ঝোলানো হয়নি। মালিকপক্ষ থেকেও স্পষ্ট নির্দেশনা না আসায় তারা পুরোনো হারেই যাত্রী তুলছেন। একজন চালক বলেন, “আমরা হঠাৎ করে বেশি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা আপত্তি করেন। তাই নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আগের নিয়মেই চলছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাময়িক স্বস্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভাড়া সমন্বয় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন মালিকদের পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যায়। ডিজেল, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শ্রমিকদের ব্যয় মিলিয়ে পরিবহন খাতের ওপর চাপ বাড়ছে।
তবে যাত্রী অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাড়া বাড়ানোর আগে গণপরিবহনের সেবার মান উন্নয়ন জরুরি। নির্ধারিত স্টপেজ মানা, অতিরিক্ত যাত্রী না তোলা, সময়মতো চলাচল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শুধু ভাড়া বৃদ্ধি জনঅসন্তোষ বাড়াতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে শুধু বাসভাড়া নয়, পণ্য পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়তে পারে। ফলে এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের সংসারে গিয়ে পড়ে।





