হামে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে প্রাণ গেল ২৪০ জনের
দেশে হামের প্রকোপ থামছেই না। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৯৮ শিশু। পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে নতুন করে ১৭২টি হাম আক্রান্ত শিশু শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৬০ শিশু। সারাদেশে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে চাপ। বিশেষ করে রাজধানী ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম সাধারণ জ্বর বা ফুসকুড়ির রোগ মনে হলেও এটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে। শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে হামের ক্ষেত্রে “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। টিকাদানে ঘাটতি, জনঘনত্ব এবং দ্রুত শনাক্তকরণে বিলম্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে শয্যা সংকটও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ও অনাক্রান্ত শিশু একই ওয়ার্ডে থাকায় সংক্রমণ আরও বাড়ছে। পর্যাপ্ত আইসোলেশন সুবিধা না থাকায় পরিবারগুলোও উদ্বেগে রয়েছে। রাজধানীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। উচ্চ ঝুঁকির জেলাগুলোতে শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
- গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩ শিশু
- হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৪ শিশু
- ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হামে মোট মৃত্যু ৪২
- একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯৮ শিশুর
- নতুন শনাক্ত হাম রোগী ১৭২ জন
- হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৬০ শিশু
- WHO বাংলাদেশকে হামের জন্য “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধই এখন সবচেয়ে বড় লড়াই। টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।





