‘অধ্যাদেশ নিয়ে রাজনীতি’: বিরোধীদের সমালোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, গুম ও মানবাধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও উন্নত আইন প্রণয়ন করা হবে।
সচিবালয়ে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি করে জারি করা কিছু অধ্যাদেশে সীমাবদ্ধতা ছিল—এটা সরকার স্বীকার করে। তবে এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল যেভাবে রাজনীতি করছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, গুম, মানবাধিকার এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে সরকার আরও গভীরভাবে কাজ করছে। “সব কিছুই নিখুঁত ছিল না। আমরা সেটি বুঝেছি। তাই অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য আইন তৈরি করা হবে,” বলেন তিনি।
গুম ইস্যুতে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি নিজেই গুমের শিকার হয়েছি। তাই এই বিষয়ে একটি শক্তিশালী ও বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা আমি গভীরভাবে অনুভব করি।” তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংসদীয় কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল কয়েকবার ওয়াকআউট করেছে, যা সংসদের নিয়ম অনুযায়ী তাদের অধিকার। তবে যেসব ইস্যুতে তারা ওয়াকআউট করেছে, সেগুলো যথাযথ ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি। “সংসদের বাইরে গিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে,” যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে বিরোধী দলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেসব অধ্যাদেশ নিয়ে তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল, সেগুলোই হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবুও তারা কেন প্রশ্ন তুলছে, তা তাঁর বোধগম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের এই অধ্যাদেশগুলোকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে। একদিকে সরকার বলছে, তারা আইনগুলোকে আরও পরিপূর্ণ করতে কাজ করছে; অন্যদিকে বিরোধীরা দাবি করছে, প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয় এবং জনমতকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করছে না।
অধ্যাদেশ ঘিরে এই বিতর্ক প্রমাণ করে, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যদি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অংশীজনদের মতামত নিয়ে সংশোধিত আইন প্রণয়ন করতে পারে, তবে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।





