হরমুজে আটকা বাংলাদেশি জাহাজ: দ্রুত ছাড়ানোর আশ্বাস দিল ইরান
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত ছাড়াতে ইরান সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর বটতলায় আয়োজিত এক শোক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জলিল রহিমি জাহানাবাদী। ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ’ শীর্ষক এ আয়োজন করে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ।
রাষ্ট্রদূত বলেন, চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে হরমুজ প্রণালি এলাকায় বহু জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের কয়েকটি জাহাজও রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত এবং দ্রুত এসব জাহাজকে নিরাপদে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এই পথ দিয়ে হয়। ফলে এখানে সামান্য অচলাবস্থাও বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ।
বাংলাদেশি জাহাজ আটকে পড়ার বিষয়টি দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হলে তা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি করতে পারে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের শত্রুতা নেই। বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চলমান সংঘাতের নিন্দা জানান এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।





