অর্থ-বাণিজ্য ফিচার

সোনার দামে অভাবনীয় উত্থান-পতন: বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ

বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অভূতপূর্ব গতিতে বাড়ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধাবস্থা এবং বাণিজ্যিক উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখছিলেন। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান নিয়োগের খবরে দাম কমতে শুরু করেছে, যা বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এই ঘটনার পটভূমিতে, গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সোনার দাম প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং একপর্যায়ে ৫ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছে। এই উত্থানের পিছনে মূল কারণ ছিল বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ট্রাম্প প্রশাসনের আক্রমণাত্মক নীতি, যেমন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা—এসব ঘটনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ফলে, ডলারের মূল্য হ্রাস এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় সোনা, রুপা এবং প্লাটিনামের মতো মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকেছেন তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোও এই উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ডলার থেকে সরে এসে সোনা কিনতে শুরু করেছে, যা বাজারে চাহিদা বাড়িয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানি টেদারের সিইও ঘোষণা করেছেন যে তাদের পোর্টফোলিওর ১০-১৫ শতাংশ সোনায় বিনিয়োগ করা হবে। এছাড়া, চলমান যুদ্ধাবস্থা—যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরায়েল-হামাস সংঘাত এবং মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ—সোনাকে ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ফলে, সোনার দাম মাত্র এক মাসে ৬০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যা ১৯৮০-এর দশকের পর সবচেয়ে বড় উত্থান।

তবে এই উত্থানের পর হঠাৎ পতনের কারণ কী? বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান কারণ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের নিয়োগ। ট্রাম্পের এই নির্বাচনকে বাজার স্বাধীনতা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে। ওয়ার্শকে ‘ইনফ্লেশন হক’ হিসেবে পরিচিত, যিনি সুদের হার কমানোর পরিবর্তে কড়া নীতি অনুসরণ করতে পারেন। ফলে, ডলারের মূল্য বেড়েছে এবং সোনার চাহিদা কমেছে। এছাড়া, দামের তীব্র উত্থানের পর লাভের বুকিং এবং লং পজিশনের লিকুইডেশনও পতনকে ত্বরান্বিত করেছে।

রুপা এবং প্লাটিনামের দামেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম একপর্যায়ে ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে, কিন্তু পতনের পর তা ৮৫ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। প্লাটিনামও ২৬০০ ডলার থেকে ২১৮০ ডলারে পড়েছে। এই ধাতুগুলোর দামও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শিল্প চাহিদায় প্রভাবিত হয়েছে, কিন্তু ডলারের শক্তি এবং সুদের হারের প্রত্যাশায় কমেছে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার