নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার ইসির
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে কোনো নতুন চ্যালেঞ্জ নেই। গতানুগতিকভাবে তাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। দীর্ঘ খরার পর এবার ইনশাআল্লাহ সেই পথে হাঁটছে কমিশন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ গণভোটকে সামনে রেখে এই মন্তব্যে তিনি আশাবাদ জাগিয়েছেন।
সানাউল্লাহ সাহেব, যিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন, বিভিন্ন জেলায় আইনশৃঙ্খলা সভা ও ব্রিফিংয়ে এই কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনকে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। পূর্ববর্তী কয়েকটি নির্বাচনকে অনেকে ‘বিতর্কিত’ বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে অংশগ্রহণ কম ছিল, অভিযোগ উঠেছিল কারচুপির। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেছেন, এবারের নির্বাচন দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারেরও একটা অংশ।
কমিশনারের এই বক্তব্যে ‘দীর্ঘ খরা’ শব্দটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ইঙ্গিত করে যে, গত কয়েক বছরে নির্বাচনী পরিবেশে আস্থা ও উৎসাহের অভাব ছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এই নির্বাচনকে অনেকে ‘নতুন শুরু’ বলে মনে করছেন। সানাউল্লাহ বলেছেন, চ্যালেঞ্জ নতুন কিছু নয়—সবই পরিচিত। তাই কমিশনের ফোকাস শুধুমাত্র স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করায়।
এই মন্তব্যের পেছনে কমিশনের বর্তমান প্রস্তুতি রয়েছে। পোস্টাল ব্যালট প্রথমবারের মতো কার্যকর করা হচ্ছে প্রবাসীদের জন্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—কোনো অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা, এমনকি পোস্টাল ভোটে জালিয়াতির চেষ্টা করলে এনআইডি ব্লক ও দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি। সরকারি কর্মকর্তাদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণায় অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়া বিশ্বাসযোগ্য হয়।
তবে কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের মতো প্রধান দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কমিশনারের আশাবাদ সত্ত্বেও অনেকে মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ও জনগণের আস্থা অপরিহার্য।





