প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটে বিশ্বমানের হাইব্রিড মডেল: সিইসি
দেশে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য হাইব্রিড পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা ভবিষ্যতে বিশ্বের সবার জন্য একটি আদর্শ মডেল হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও মেইল প্রসেসিং সেন্টারে পোস্টাল ব্যালটের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো আমরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশীরা যারা ভোট দিতে চান, তাদের জন্য ভোটের ব্যবস্থা করেছি। গত ৫৪ বছরে যে জিনিসটা হয়নি, আমরা সেই উদ্যোগটাই নিয়েছি। কেননা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর আমরাও সেই একই প্রতিশ্রুতিকে ধারণ করি।’
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও ম্যানুয়াল পোস্টাল ব্যালটের সমন্বয়ে গঠিত এই হাইব্রিড মডেলকে তিনি বিশ্বমানের উদ্যোগ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এই হাইব্রিড মডেল সারা বিশ্বের জন্য একটি মডেল হয়ে থাকবে। যত দিন যাবে, এটা আরও উন্নত হবে। আমাদের সিস্টেমটাকে আরও ডেভেলপ করব এবং আগামীতে যখন নির্বাচন হবে, এটা তখন আরও উন্নততর হবে। এর আওতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’
প্রবাসী ভোটারদের জন্য এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় লাখো প্রবাসী বাংলাদেশী প্রথমবারের মতো দেশের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে হাজার হাজার প্রবাসী অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। পোস্টাল ব্যালট পাঠানো ও সংগ্রহের কার্যক্রম তেজগাঁও মেইল প্রসেসিং সেন্টার থেকে সমন্বয় করা হচ্ছে।
সিইসি পরিদর্শনকালে পোস্টাল ব্যালটের প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হাইব্রিড পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসী ভোটারদের ব্যালট নিরাপদে সংগ্রহ ও গণনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই মডেলের সাফল্য ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।





