রূপপুর ঋণ পরিশোধে ১৮ মাসের ছাড় দিল রাশিয়া: ২০২৮-এ শুরু কিস্তি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মূল ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১৮ মাস পিছিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। নতুন সূচি অনুযায়ী প্রথম কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৮ সালে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার খোজিন সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকায় রুশ দূতাবাসে আয়োজিত ‘২০২৫ সালের রাজনৈতিক ফলাফল’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, চলতি বছরের জুলাইয়ে আন্তঃসরকারি ঋণচুক্তি (আইজিসিএ) সংশোধনের পর উভয় দেশের অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত সংশোধিত প্রোটোকলের মাধ্যমে এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছে। এতে প্রকল্পের আর্থিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হয়েছে এবং রাশিয়ার অব্যাহত প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে।
রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি প্রসঙ্গে খোজিন বলেন, বর্তমানে মূল লক্ষ্য ইউনিট-১-এর কমিশনিং। চূড়ান্ত নির্মাণ, স্থাপন, স্টার্ট-আপ ও সমন্বয় কার্যক্রমের পাশাপাশি বাধ্যতামূলক পরিদর্শন ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া একযোগে চলছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আগামী বছরেই জাতীয় গ্রিডে প্রথম মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।’ এটিকে তিনি প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন।
পূর্ববর্তী সরকারের সময় প্রকল্পে তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে রাশিয়া মন্তব্য করে না। তবে যন্ত্রপাতি উৎপাদন, সরবরাহসহ বিভিন্ন মাইলফলকে যথাযথ নথিপত্র, সনদায়ন ও যাচাইয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে খোজিন বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও গত তিন বছরে বাণিজ্য লেনদেন বার্ষিক দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ২০ লাখ টন রুশ গম বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে। পটাশ, সার ও সরিষার বীজের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রুশ ভেটেরিনারি ভ্যাকসিন রপ্তানি এ বছর ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি সহযোগিতাকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, পারমাণবিক জ্বালানির পাশাপাশি গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি সরবরাহ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মাইলফলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। প্রকল্পের দুটি ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।





