ওসমান হাদির ওপর হামলায় এনসিপির তীব্র নিন্দা, সরকারের নিরাপত্তা ব্যর্থতায় ক্ষোভ
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর বর্বর হামলাকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার হওয়া গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় এই হামলার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, এই হামলা শুধু একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলস্বরূপ পুনরুদ্ধারিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপরও একটি চিন্তাজনক আঘাত। এনসিপি গুরুতর আহত হাদির দ্রুত সুস্থতার জন্য কামনা করে এবং দেশবাসীদের কাছে তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করছে।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নির্বাচনী পরিবেশের ভঙ্গুরতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেছে। বিশেষ উদ্বেগজনক যে, হাদি হামলার আগে ফেসবুকে প্রকাশ্যে হুমকির কথা জানিয়েছিলেন—যাতে তাকে হত্যা, তার বাড়িতে আগুন লাগানো এবং পরিবারের নারীদের ধর্ষণের হুমকি উল্লেখ ছিল—তবুও সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এর আগে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে বারবার ককটেল হামলা এবং একজন প্রার্থীর হুমকি পাওয়ার পরও নিরাপত্তা না দেওয়া সরকারের চরম ব্যর্থতা, দায়িত্বহীনতা, অদক্ষতা ও উদাসীনতার নগ্ন উদাহরণ—যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এনসিপি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালিয়ে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছে এবং তাদের অবশিষ্ট সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয়ভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সরকার যদি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান না চালায়, তাহলে তারা আবারও গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং দেশকে সহিংস অরাজকতার দিকে ঠেলে দেবে। বার্তায় বলা হয়েছে, এখন গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে পরস্পর দোষারোপ করে রাজনৈতিক লাভ তোলার সময় নয়; বরং প্রকৃত অপরাধী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার সময়। গণঅভ্যুত্থানের শক্তি যদি বিভক্ত হয়, তাহলে সুযোগ নেবে পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও দেশবিরোধী চক্র, যারা অতীতেও হত্যা ও সহিংসতার মাধ্যমে রাজনীতিকে কলুষিত করেছে।
এনসিপি দেশের নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, পরিবর্তনের পথযাত্রায় থাকা সব গণতান্ত্রিক শক্তি এবং সর্বোপরি আপামর জনগণকে সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা দৃঢ়ভাবে জানায়, যেকোনো হুমকি, ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উপেক্ষা করে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে এনসিপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই বার্তা নির্বাচনী পরিবেশে সহিংসতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নিন্দা ও দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।





