কোনো শক্তিই ১২ ফেব্রুয়ারি থামাতে পারবে না: শফিকুল আলম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করার মতো কোনো শক্তি পৃথিবীতে নেই—এই দৃঢ়বাদ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের অটল অবস্থান জানিয়েছেন। শুক্রবার (১২ ডিসেবার) বেলা সাড়ে ১১টায় শরীয়তপুরের নড়াইয়ার সুরেশ্বর দরবার শরীফে জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষমাণ। যারা আইন হাতে তুলে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা অবনতি করার চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। এছাড়া, অনৈতিক দাবি নিয়ে নির্বাচন ব্যাহত করার চেষ্টাকারীদেরও এই সরকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে।
শফিকুল আলম বলেন, “২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কোনো শক্তিই বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের এই উত্সাহ ও ঐক্যের মুখে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।” তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল ঘোষিত তফসিল অনুসারে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ৫ জানুয়ারি, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও গতিময় করবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা পতিত স্বৈরাচারের পার্টি, তারা নিজেরাই নির্বাচন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। তারা পলিটিক্যালি শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে পারে, কিন্তু তারা সেটা না করে তাদের সরকার ও কর্মীরা সবাই রাইফেল-পিস্তল নিয়ে নেমেছে বাচ্চা-কাচ্চা ছেলেদের খুন করার জন্য।” এই মন্তব্যের পটভূমিতে তিনি আওয়ামী লীগের সদস্যদের বিরুদ্ধে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারির ঘোষণা উল্লেখ করেন, যা গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে এবং এখনও ৫০০০-এর বেশি লিফলেট বিতরণকারীদের গ্রেপ্তার হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব আরও বলেন, নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে সরকার সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে। গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন’ হিসেবে দেখে শফিকুল আলম আশা প্রকাশ করেন, জনগণের অংশগ্রহণে এটি সফল হবে। এই মন্তব্য আজকের ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার পরবর্তী প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে সরকার ইতিমধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে।





