হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি পেয়েছেন আইনজীবীর হাতে
২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ডের ঐতিহাসিক রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আজ আইনজীবীদের হাতে এসেছে।
গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ প্রদত্ত এই রায়ের ৩০০+ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন সাবেক আইজিপি মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট বলেছে, “যেসব সাক্ষী হাত-পা, চোখ, নাক, মাথার খুলি হারিয়ে ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁদের অবস্থা দেখে যে-কোনো মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক থাকা কঠিন। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের যেকোনো মূল্যে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।”
বিশেষ করে দ্বিতীয় অভিযোগে (হেলিকপ্টার থেকে গুলি, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ এবং চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ায় গণহত্যা) শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, “এই সমস্ত অপরাধের জন্য একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।”
মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা
- জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম (স্টার উইটনেস)
- দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান
প্রসিকিউশনের নেতৃত্ব দেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন এবং রাজসাক্ষী মামুনের পক্ষে যায়েদ বিন আমজাদ শুনানি করেন।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশের পর আইনি মহলে ধারণা করা হচ্ছে, পলাতক আসামিরা এখন আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (রেড নোটিস) জারির মুখে পড়বেন এবং আপিল প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে।
এই রায়কে ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে গণহত্যার বিচারের প্রথম সফল নজির’ হিসেবে অভিহিত করছেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা।





