“গোপালগঞ্জে গণগ্রেফতার নয়, কেবল দোষীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, গোপালগঞ্জে গণগ্রেফতারের কোনো ঘটনা ঘটছে না; কেবল অপরাধের সঙ্গে জড়িতদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে। রোববার দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন ও তৎসংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “গোপালগঞ্জে ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা স্বীকার করছি। রাজনীতিতে এমন ঘটনা ঘটে। তবে এর পরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, ঘটনার তদন্তে গঠিত কমিটি তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে, তবে ১৪৪ ধারা এখনো বলবৎ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এটিও পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচনের জন্য পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।” তিনি জানান, নির্বাচনের সময় এখনো বাকি থাকলেও সার্বিক প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পুলিশ আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। যেখানে অপরাধ ঘটছে, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুষ্কৃতিকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।”
গোপালগঞ্জের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। কেবল দোষী ব্যক্তিদেরই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।” আওয়ামী লীগের ডাকা হরতাল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হরতাল পালিত হয়েছে কি না, তা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। আমাদের লক্ষ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা।”
গোপালগঞ্জের বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় আমরা স্বস্তি পাচ্ছি। কিন্তু পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে আমরা আরও নিরাপদ বোধ করব।” স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, “সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তবে নির্বাচনের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।”





