ইসরাইল থামলে আমরাও থামব: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসরাইল যদি ইরানে হামলা বন্ধ করে, তবে ইরানও পাল্টা হামলা থামিয়ে দেবে। রোববার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ হলে আমরাও শান্তি বজায় রাখব। কিন্তু তাদের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে আমরাও জবাব দিতে বাধ্য।”
গত শুক্রবার ভোরে ইসরাইল ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকস্মিক বিমান হামলা শুরু করে, যা রোববার পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। ইরানি সূত্র জানায়, গত দুই দিনে এই হামলায় ৮০ জন নিহত ও প্রায় ৮০০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার ও কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানী রয়েছেন।
ইসরাইলের এই হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। শনিবার রাতে ইরান ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা ইসরাইলি শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
আরাগচি বলেন, “আমরা শান্তি চাই, কিন্তু আমাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করব না।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, ইসরাইলের এই আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ড. হাসান আলী বলেন, “ইরান-ইসরাইল সংঘাত এখন একটি বিপজ্জনক মোড়ে পৌঁছেছে। আঞ্চলিক শান্তির জন্য উভয় পক্ষের সংযম প্রয়োজন।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
তেহরানের বাসিন্দা আলী রেজা বলেন, “এই হামলায় আমরা আতঙ্কে আছি। আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ নয়।”
ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রোধে এই হামলা জরুরি ছিল। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
সংঘাতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় বিশ্ব নেতারা উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন।





