ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক টার্নিং পয়েন্ট হলেও, সেই সময়ের পরাজিত শক্তিরা পরবর্তীতে মহাজোটের ব্যানারে এসে বাংলাদেশকে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল বলে তীব্র মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, যারা দেশের স্বাধীনতা এবং sovereignty বা সার্বভৌমত্বকে মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেনি, তারাই বারবার নানা খোলসে ক্ষমতা দখল করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। আজ এক বিশেষ রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখার সময় সরকারপ্রধান এই কঠোর হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বাংলার মাটিতে আর কখনো কোনো পরনির্ভরশীল শক্তির উত্থান ঘটতে দেওয়া হবে না।
এক নজরে মূল তথ্যসমূহ:
-
- ৭ নভেম্বর কেন্দ্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে “পরাজিত শক্তি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
- মহাজোট সরকারের আমলের নানামুখী নেতিবাচক প্রভাব ও পরনির্ভরশীলতার তীব্র সমালোচনা।
- দেশকে পুনরায় আত্মনির্ভরশীল ও সার্বভৌম মর্যাদায় ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত।
- তরুণ প্রজন্মকে ইতিহাসের সঠিক সত্য জানার এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান।
ক্ষমতার অপব্যবহার ও তাঁবেদার রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত বছরগুলোর জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ টেনে বলেন, যারা এদেশের গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করতে চেয়েছিল, তারা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নামে জোট গঠন করে। বিশেষ করে মহাজোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই পরাজিত চক্রটি দেশকে পুরোপুরি পরনির্ভরশীল করে তোলার সবরকম চেষ্টা চালিয়েছিল। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র কখনো অন্য কোনো এক্সটার্নাল শক্তির ইশারায় চলতে পারে না, কিন্তু তৎকালীন শাসকরা সেই ন্যূনতম আত্মমর্যাদাটুকুও বিসর্জন দিয়েছিল।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে এবং বিদেশি প্রভুদের সন্তুষ্ট করে যারা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল, বাংলার মানুষ তাদের চিনে নিয়েছে। উন্নয়ন স্তব্ধ করে দিয়ে দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর যে ছক আঁকা হয়েছিল, তা আজ জনগণের সচেতনতার কারণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষ এখন বোঝে যে, নিজস্ব শক্তিতে দাঁড়িয়ে থাকাই হলো একটি স্বাধীন দেশের প্রধান সার্থকতা।
সঠিক ইতিহাসের প্রয়োজনীয়তা ও বিকৃতির জবাব
নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের বিকৃতি রোধ করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ৭ নভেম্বর এর প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে নিজেদের মতো করে ইতিহাস সাজানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সত্যকে কখনো চিরতরে চেপে রাখা যায় না, তা একদিন না একদিন প্রকাশ পাবেই। আজকের বাংলাদেশ যখন বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে, তখন পুরনো সেই পরাজিত মানসিকতার অপশক্তিরা আবারো জলঘোলা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আমাদের তরুণদের জানতে হবে কারা দেশের পক্ষে ছিল আর কারা পর্দার আড়াল থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গণবিরোধী কোনো শক্তি কখনো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না এবং জনগণের স্রোতে তারা ভেসে যায়। সঠিক ইতিহাস চর্চার মাধ্যমেই তরুণ সমাজকে দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
উন্নয়ন ও আত্মমর্যাদার নতুন বাংলাদেশ
তাঁবেদার রাষ্ট্রের তকমা মুছে ফেলে বাংলাদেশ এখন নিজস্ব অর্থায়নে বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কারো দয়া বা অনুকম্পা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাঁচতে চাই না। দেশ এখন অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে। যে পরাজিত শক্তি একসময় আমাদের ভিক্ষুকের জাতি বানিয়ে রাখতে চেয়েছিল, তাদের সমস্ত আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে।
এই অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রকৃত দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই। কোনো বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত না করে, দেশের কোটি কোটি জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই বর্তমান সরকার পথ চলছে এবং ভবিষ্যতেও পথ চলবে। আমাদের অর্থনীতি এখন যেকোনো বাহ্যিক চাপ সামলে নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে।
গভীর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে সদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মহাজোট বা অন্য কোনো মুখরোচক নামে যারা আবার দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তাদের রাজনৈতিকভাবে রুখে দিতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। বাংলাদেশ আর কখনো কোনো দেশের তাঁবেদার রাষ্ট্র হবে না, বরং বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।
দেশবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এদেশের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাসকে কোনোভাবেই অপবিত্র হতে দেওয়া যাবে না।