ফিচার রাজনীতি

৮১ ঘণ্টা নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান নিষিদ্ধ :ইসি

৮১ ঘণ্টা নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান নিষিদ্ধ :ইসি

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে বড় ধরনের কঠোর অবস্থানে গেল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যেকোনো ব্যক্তির নিজ এলাকার বাইরে টানা ৮১ ঘণ্টা বা ৪ দিন অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন থেকে এ সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্বাচন মানেই যেন এক সময় ছিল পেশিশক্তি আর বহিরাগতদের দাপট। সেই সংস্কৃতি ভাঙতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে ইসি। সোমবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ভোটের মাঠে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দেশনাটি ইতিমধ্যে দেশের সকল জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও পুলিশ কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যেন, ভোটের আগের ও পরের এই নির্দিষ্ট সময়ে কোনোভাবেই নির্বাচনী এলাকার বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিরা সেখানে অবস্থান করতে না পারেন। তবে ভোটারদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না; অর্থাৎ ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন, কিন্তু এলাকার বাসিন্দা নন এমন কেউ সেখানে আস্তানা গাড়তে পারবেন না।

৮১ ঘণ্টার সমীকরণ ও মাঠের প্রস্তুতি

সাধারণত ভোটের আগের ৪৮ ঘণ্টা এবং ভোটের দিন অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। কিন্তু ইসি এবার সেই সময়কে আরও প্রসারিত করে ৮১ ঘণ্টায় নিয়ে গেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—ভোটের আগে কোনো প্রকার গোপন বৈঠক, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা কালো টাকার লেনদেন বন্ধ করা।

মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি মেস, হোটেল এবং গেস্ট হাউজগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি চালাতে। বিশেষ করে যারা ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যাতায়াত করছেন, তাদের যথাযথ প্রমাণপত্র সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম হবে আরও কঠোর। প্রচারণার সময়সীমা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ‘বহিরাগত’ কর্মীদের এলাকা ছাড়তে হবে।

ইসির নির্দেশনা একনজরে:

  • সময়সীমা: টানা ৮১ ঘণ্টা বা মোট ৪ দিন।

  • লক্ষ্য: বহিরাগতদের প্রভাবমুক্ত রেখে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করা।

  • আওতাভুক্ত এলাকা: নির্বাচনী এলাকা বা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসন।

  • ব্যতিক্রম: সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মী এবং সাংবাদিক (পাসধারী)।

  • প্রশাসনিক ব্যবস্থা: ডিসি, এসপি ও কমিশনারদের কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের নির্দেশ।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বাংলাদেশে নির্বাচনী সহিংসতার বড় একটি অংশ ঘটে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে আনার মাধ্যমে। যদি এলাকাভিত্তিক এই লকডাউন বা অবস্থান নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে কার্যকর করা যায়, তবে কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠাও কাজ করছে। বিশেষ করে যারা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে বা জরুরি ভ্রমণে থাকবেন, তারা যেন হয়রানির শিকার না হন—সেদিকে নজর রাখার দাবি উঠেছে। ইসি অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে, যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে সাধারণ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। তবে সন্দেহভাজন যেকোনো গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে কঠোরভাবে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার