নির্বাচন অপহরণের চেষ্টা চলছে: ইসির বিরুদ্ধে জামায়াত আমিরের কড়া হুঁশিয়ারি
নির্বাচনের প্রাক্কালে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা সীমিত করার সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ‘অন্ধকার পথ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধকে বৈধতা দিতেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের দিকে হাঁটছে।
মোহাম্মদপুরের টাউন হল সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত বিশাল এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ইন্টারনেট বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত কেবল তথ্যপ্রবাহে বাধা নয়, বরং এটি পর্দার আড়ালে বড় কোনো জালিয়াতিকে সুরক্ষা দেওয়ার অপচেষ্টা। যখন বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ইসি আমাদের অন্ধকার যুগে ঠেলে দিচ্ছে যাতে তাদের অনিয়মের খবর দেশের মানুষ জানতে না পারে।”
তিনি আরও দাবি করেন, একটি বিশেষ পক্ষ সুনিশ্চিত পরাজয় জেনে নির্বাচনকে ‘অপহরণ’ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তার মতে, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার পুরনো ছকই এবার ভিন্ন আঙ্গিকে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই ‘নির্বাচন অপহরণ’ প্রক্রিয়ায় ইসিকে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন।
১১ দলীয় ঐক্যের শক্ত অবস্থান
১১ দলীয় ঐক্যের এই নির্বাচনী সভায় জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি মাঠের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। ডিজিটাল বা এনালগ—কোনো পথেই যেন কেউ আপনাদের আমানত লুট করতে না পারে।”
বক্তৃতায় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতেও নানা অজুহাতে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল বিরোধী মতের সমন্বয় বাধাগ্রস্ত করা। এবারও নির্বাচনের দিন বা তার আগে এমন পদক্ষেপ নিলে তা গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকার শামিল হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগমুহূর্তে ইন্টারনেটের মতো মৌলিক সেবা বন্ধের আলোচনা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য সেই জনক্ষোভকেই রাজনৈতিক ভাষা দিয়েছে। জনসভায় উপস্থিত অন্যান্য শরিক দলের নেতারাও একই সুরে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলে ডিজিটাল সেবা কেড়ে নেওয়া হবে স্ববিরোধী আচরণ।
বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার, ব্যবসায়ী এবং তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে ইন্টারনেট বন্ধের আশঙ্কায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এই ইস্যুটিকে বড় করে সামনে এনে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।





