৩০০ আসনেই ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: ইউনূসের বৈঠকে ব্যালট ছাপার ঘোষণা
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের সব ৩০০টি আসনেই একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়, আজ মধ্যরাত থেকেই সরকারি মুদ্রণালয়ে ব্যালট পেপার ছাপার কাজ শুরু হবে—যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ের সূচনা।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইউনূস বলেন, “আজ থেকে আমাদের পরীক্ষা শুরু হলো। ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল পরীক্ষা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই নির্বাচন শুধু একটি ভোটগ্রহণ নয়, বরং ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি আদর্শ মানদণ্ড স্থাপন করবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনাই এখন সর্বোচ্চ—সবাইকে তা মেনে চলতে হবে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই নির্বাচন একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ম্যান্ডেট ছিল সংস্কারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুনরুদ্ধার করা। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে গণভোটও হবে, যা সংবিধান সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করবে। এই দ্বৈত ভোটের কারণে লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ বেড়েছে—ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম পরে ব্রিফিংয়ে জানান।
ব্যালট ছাপার এই শুরু নির্বাচনকে আরও বাস্তবায়িত করে তুলেছে। সরকারি মুদ্রণালয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এই কাজ চলবে। প্রতীক বরাদ্দ আজ সম্পন্ন হয়েছে, এবং প্রচারণা শুরু হয়েছে গতকাল মধ্যরাত থেকে। প্রার্থীরা এখন গ্রাম-শহরে ঘুরে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। বিএনপি নেতা তারেক রহমান সিলেট থেকে প্রচার শুরু করবেন। প্রবাসী ভোটাররা ইতিমধ্যে অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দিতে শুরু করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রয়োজনে প্রবেশ করতে পারবে। বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ও কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে অভূতপূর্ব নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কোনো কিছুই যেন ছেড়ে না যায়—১২ ফেব্রুয়ারিতে কোনো গলদ থাকবে না।”





