সোনামসজিদ দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি
দেশে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্রিয়তায় স্বস্তির খবর এসেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মোট ৯০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছে সরকার। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ। এর মধ্যে ২৭টি অনুমোদনপত্রের ভিত্তিতে ৮১০ টন পেঁয়াজের আমদানি শুরু হয়েছে, এবং আজকের সারাদিনে ১৮০ টন পেঁয়াজ স্থলবন্দরে প্রবেশ করেছে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতের মোহদীপুর থেকে দুটি ট্রাকে ৬০ টন পেঁয়াজ সোনামসজিদ বন্দরে প্রবেশ করে, যা আমদানি কার্যক্রমের প্রথম ধাপ। এর ফলে স্থানীয় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে। গতকাল পর্যন্ত রকমভেদে নতুন পেঁয়াজ ৬৫-৮৫ টাকা কেজি এবং পুরাতন পেঁয়াজ ১১০-১১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল, যা শনিবারের ১০০-১৩৫ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ বাজারসহ জেলার বিভিন্ন আড়তে এখন কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা কমে ১০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এই আমদানির ধারাবাহিকতায় আগামী দিনগুলোতে দাম আরও স্থিতিশীল হবে।
এই আমদানির সিদ্ধান্তের পটভূমি হলো দেশে পেঁয়াজের স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আমদানি বন্ধ থাকায় মূল্যস্ফীতি। গত ৯ সেপ্টেম্বর সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে সর্বশেষ পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল, তারপর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ ছিল। ৬ ডিসেম্বর সরকার সীমিত আকারে (প্রতিদিন ৫০টি আইপি, প্রতি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন) আমদানির অনুমতি দেয়, যা ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর ফলে ৩০টির বেশি ব্যবসায়ীকে অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়েছে, যার মধ্যে ওয়েলকাম এন্টারপ্রাইজ এবং গৌড় ট্রেডার্সের মতো প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই প্রক্রিয়া চলছে, যাতে কৃষকদের ক্ষতি না হয় এবং বাজার স্থিতিশীল থাকে।
বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই আমদানি দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেমন ঢাকা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের নির্দেশনায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা গত নভেম্বর থেকে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।





