শিক্ষিত নয়, সুশিক্ষিত হও: ক্যাডেটদের প্রতি সেনাপ্রধান
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আমরা অনেকেই শিক্ষিত হই, কিন্তু সুশিক্ষিত হই না। ভালো ভালো রেজাল্ট করি, ভালো জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হই, ইউনিভার্সিটিতে ভালো করি, পিএইচডি করি, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করি, কিন্তু কারও কারও মাঝে নৈতিকতার অভাবের কারণে আমরা খুব একটা ভালো কাজ করতে পারি না। তিনি ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা, দেশপ্রেম এবং গরিব জনগণের জন্য দায়বদ্ধতা থাকতে হবে, কারণ তাদের করের টাকায় আমরা বেতন পাই এবং শিক্ষা লাভ করি।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজে সাবেক ক্যাডেটদের ৩ দিনব্যাপী ১ম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৯৯৮ থেকে ২০২৪ ব্যাচের প্রায় ৫০০ প্রাক্তন ক্যাডেট অংশ নেন, যারা বিভিন্ন পেশায় সফল হয়ে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে আছেন।
এসময় ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদেরকে দেশে, জাতীয় ও গরিবদের জন্য কাজ করতে হবে, যাদের টাকায় আমরাও বেতনভুক্ত, পড়াশোনা করেছি, পড়াশোনা করছি, করে যাচ্ছি। তাদের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি ক্যাডেট কলেজের শিক্ষাকে ‘চরিত্র গঠনের কারখানা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এখান থেকে বের হওয়া প্রত্যেককে নেতৃত্ব, সততা এবং মানবতার মানদণ্ডে দেশসেবা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়াহাব, জয়পুরহাট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুল, সেনা প্রধানের স্ত্রী কমলিকা জামান, প্রাক্তন ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌসুমী শিখা ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের সেনা কর্মকর্তা, ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তারা। পুনর্মিলনীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ এবং ক্যাডেটদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যা কলেজের উন্নয়নে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যেও কাজ করবে। সেনাপ্রধান ক্যাডেটদের জন্য নতুন লাইব্রেরি ও স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ঘোষণা দেন, যা জুলাই বিপ্লবের চেতনায় তরুণদের নেতৃত্ব গড়ে তুলবে।





