মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ক্ষোভ
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগের (৩৯) নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে গভীরভাবে দুঃখজনক উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। শনিবার সকালে পুরান ঢাকার মিল ব্যারাকে বাংলাদেশ পুলিশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা জানান, মিটফোর্ডের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ডিবি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে নিরলসভাবে কাজ করছে। আমরা নিশ্চিত করব যেন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ পার না পায়।”
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে সমাজে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা খুব অসহিষ্ণু হয়ে গেছি। এই ধরনের ঘটনা রোধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে এমন অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।” তিনি জনগণকে আইন নিজের হাতে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানান।
বিচার প্রক্রিয়ার বিলম্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “আমি বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত নই। আসামিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার পর বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।” তিনি আশ্বাস দেন, সরকার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মিটফোর্ডের এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া বলেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে এমন নৃশংস হত্যা আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আমরা চাই দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করা হচ্ছে।
গত বুধবার (৯ জুলাই) মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাকে ডেকে নিয়ে প্রথমে পিটিয়ে এবং পরে ইট-পাথরের আঘাতে হত্যা করা হয় বলে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা গেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হত্যার কারণ হিসেবে চাঁদাবাজির বিষয়টি উঠে এসেছে।





