মিটফোর্ডের নৃশংস হত্যা: দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি সরকারের
রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগের (৩৯) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরকার দ্রুত বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এই পাশবিক হত্যার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২-এর ধারা ১০-এর অধীনে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হবে।
গত বুধবার (৯ জুলাই) মিটফোর্ডের ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে লাল চাঁদকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, মামলার এজাহার, নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাকে ডেকে নিয়ে প্রথমে পিটিয়ে এবং পরে ইট-পাথরের আঘাতে তার মাথা ও শরীর থেঁতলে দেওয়া হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যার পেছনে মূল কারণ চাঁদাবাজি। পুলিশ জানায়, নিহত লাল চাঁদ একসময় যুবদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তার ফেসবুক পোস্টে জানান, এই ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
এই ঘটনায় বিএনপি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে বলেন, “এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বিএনপির নীতি ও আদর্শের সঙ্গে এমন সন্ত্রাসের কোনো সম্পর্ক নেই।” দলটি অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় বলেন, “এই হত্যার বিচার দ্রুত না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে। তিনি জনগণকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানান।





