“ভোলার শায়েখের বয়ানে অর্ধশত তরুণ পাহাড়ে নিরুদ্দেশ হয়েছিল”
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জানিয়েছে, নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার নায়েবে আমির মো. মহিবুল্লাহ ওরফে ভোলার শায়েখ (৪৮) আধ্যাত্মিক নেতার ভূমিকা পালন করছিলেন। তার বয়ান শুনেই অর্ধশত তরুণ ঘর ছেড়ে পাহাড়ে নিরুদ্দেশ হয়েছিল।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টোরোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য দেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে সিটিটিসির ইনভেস্টিগেশন টিমের বিশেষ অভিযানে রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান বলেন, গ্রেফতার শায়েখ মহিবুল্লাহ উগ্রবাদি জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার আধ্যাত্মিক নেতার ভূমিকা পালন করছিলেন। বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে তিনি ব্যাপক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন এবং ৫০-৬০ জন তরুণকে তিনি প্রশিক্ষণ দেন। প্রথমদিকে হিজরতকারীদের তিনিই আশ্রয়-বয়ান দিয়ে বিভ্রান্ত করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঢাকা হয়ে পাহাড়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সিটিটিসির হাতে গ্রেফতার শুরা সদস্য ডা. শাকের ওরফর শিশির, পলাতক জঙ্গি নেতা শামিন মাহফুজসহ গ্রেফতার শায়েখ মহিবুল্লাহ বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দিস শারক্বীয়ার প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যান।রা
এই নিরুদ্দেশ তরুণরা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে কুকি-চিনদের বিদ্রোহী সংগঠন কেএনএফ (কুকি-চিন ন্যশানাল ফ্রন্ট)-এর তত্ত্বাবধানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ চলতো। সেখানে তাদের কেএনএফের প্রধান নাথান বম ও অন্যান্য কুকি-চিন নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামে সংগঠনটির নামকরণ করা হয় এবং শুরা কমিটি গঠন করে। গ্রেফতার মহিববুল্লাহকে সংগঠনটির নায়েবে আমির হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার মহিববুল্লাহ ক্যাম্পে অবস্থানকালে সন্ধ্যার পর প্রশিক্ষণরত সদস্যদের বয়ান দিতেন। তার বয়ানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে জঙ্গি সদস্যদের জিহাদের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। শায়েখ মহিববুল্লাহ পাহাড়ে কিছুদিন অবস্থান করার পর ঢাকায় চলে আসেন।
এসময় মুহিবুল্লাহ শুরা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড চ্যাটের মাধ্যমে সমন্বয় করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দাওয়াতের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন বলে জানান সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।
আরও পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রচুক্তি স্থগিত





