ভোটের অধিকার রক্ষায় ভোর থেকেই কেন্দ্রমুখী হওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য নেতাকর্মীদের ভোটের দিন ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে। এই কৌশলী নির্দেশনা নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে দেওয়া হয়েছে, যা বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
তারেক রহমানের এই আহ্বান এসেছে একাধিক নির্বাচনী জনসভায়। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি প্রথম এই কথা বলেন। রাত ১০টার দিকে মঞ্চে উঠে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “ভোটের অধিকার রক্ষা করতে হলে আমাদের সকালের প্রথম আলোয় কেন্দ্রে হাজির হতে হবে।” এরপর চট্টগ্রাম, সিলেট এবং হবিগঞ্জের জনসভায়ও একই আহ্বান পুনরাবৃত্তি করেন। দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশে তিনি নেতাকর্মীদের ঢল দেখে উৎসাহিত হন।
এই আহ্বানের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের তিক্ত অভিজ্ঞতা। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম হয়, ভোটারদের ভয় দেখানো হয় এবং ভোট ছিনতাই করা হয়। তারেক রহমানের কথায়, “যারা দেশের মানুষকে দেখে নিয়েছে, তাদের ‘জিনিস’ কী—সেটা এবার প্রমাণ করতে হবে।” তিনি নির্বাচনকে ‘দেশের ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই কৌশলটি যেন একটি ‘ভোরের বিপ্লব’—যেখানে ধর্মীয় অনুভূতিকে যুক্ত করে রাজনৈতিক সচেতনতা জাগানো হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই তারেক রহমান চমক দেখিয়েছেন। সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে যৌথ মঞ্চে উঠে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করান। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে জনসভার মঞ্চে নামাজ আদায় করে তিনি নেতাকর্মীদের অনুপ্রাণিত করেন। এসব সমাবেশে লাখো সমর্থকের উপস্থিতি বিএনপির শক্তি প্রদর্শন করেছে, যা গত নির্বাচনের বয়কটের পর একটি নতুন অধ্যায়।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই আহ্বান বিএনপির জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। গত নির্বাচনে বয়কটের ফলে দলটি সংসদের বাইরে থেকেছে, যা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়েছে। এবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা ভোটারদের সক্রিয় করতে চাইছে। তবে, সরকারি পক্ষ থেকে এই আহ্বানকে ‘অনিয়ম সৃষ্টির চেষ্টা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড় সৃষ্টি করে শান্তি বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।” বিএনপির নেতারা অবশ্য বলছেন, এটি শান্তিপূর্ণ ভোটাধিকার প্রয়োগের অংশ।
তারেক রহমানের এই নির্দেশনা ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনীতির সঙ্গে মিশিয়ে একটি অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তাহাজ্জুদ এবং ফজরের নামাজকে যুক্ত করে তিনি নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি আধ্যাত্মিক উদ্দীপনা জাগানোর চেষ্টা করছেন। এটি যেন একটি ‘ধর্মীয় সকাল’—যা রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। তবে, সমালোচকরা বলছেন, এতে নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।





