বিশ্ববাজারে সোনার দামে নতুন রেকর্ড: প্রতি আউন্স ৪,৬৮০ ডলার ছাড়াল
বিশ্ববাজারে সোনার দাম আজ সোমবার নতুন ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪,৬৮০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা গত কয়েকদিনের মধ্যে একাধিকবার রেকর্ড ভেঙেছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্যারিফ নীতি ও নিরাপদ সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁকের কারণে এই ঊর্ধ্বগতি। বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে—বাজুসের সর্বশেষ হিসাবে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশীয় বাজারে নতুন রেকর্ড।
এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুধু সোনার নয়, রুপারও। বিশ্ববাজারে সোনা এখন ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নতুন ট্যারিফের হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিতর্কের পর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার ছেড়ে সোনার দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে স্পট গোল্ডের দাম ১.৬% বেড়ে ৪,৬৭১ ডলারে পৌঁছেছে, এবং ফিউচার্স কন্ট্রাক্টে ৪,৬৭৬ ডলার ছুঁয়েছে। ২০২৫ সালে সোনা ৬৪% বেড়েছে, আর ২০২৬-এর শুরুতেই ৮% এর বেশি উত্থান—এটি এক অভূতপূর্ব গতি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতির ভয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার প্রবণতা এবং নিম্ন সুদের হারের সম্ভাবনা সব মিলিয়ে সোনাকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। জে.পি. মরগানের পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৬-এর শেষ নাগাদ দাম ৫,০০০ ডলার ছাড়াতে পারে, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ৬,০০০ ডলারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সোনা আরও ‘ডিজিটাল সোনা’র মতো বিনিয়োগের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
দেশীয় বাজারে প্রভাব আরও স্পষ্ট। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় তেজাবি সোনার দাম বাড়ার কারণে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বছর এখন পর্যন্ত দাম সাতবার সংশোধন করা হয়েছে—পাঁচবার বেড়েছে, দু’বার কমেছে।
সাধারণ মানুষের জন্য এ খবর মিশ্র অনুভূতির। বিয়ে-শাদি, উৎসবের মৌসুমে সোনা কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেকে বলছেন, এখন কেনার চেয়ে অপেক্ষা করাই ভালো। তবে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এই ঊর্ধ্বগতি দীর্ঘমেয়াদি—সোনা এখন শুধু অলংকার নয়, সম্পদ সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম।





