বর্ষাকালে হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ে কেন?
হাঁপানি এক ধরনের অ্যালার্জিজনিত রোগ। বর্ষাকালে বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। এটি পরাগ এবং ছত্রাকের উপস্থিতি বাড়ায়। বিশেষ করে, যেখানে আর্দ্রতা বেশি, সেখানে পরাগ ও ছত্রাক বেশি থাকবে। হাঁপানি রোগী যখন শ্বাস নেয় বা তাদের স্পোরের গন্ধ পায়, তখন হাঁপানির লক্ষণ বাড়তে থাকে। ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণও বর্ষাকালে হাঁপানি রোগীদের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
বর্ষাকালে হাঁপানি রোগীদের অনেক উপসর্গ দেখা যায়। সাধারণত এ ধরনের রোগীদের কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্ট ছাড়াও সর্দি, কাশি, ক্যাটরহ, চোখে চুলকানি, গলায় চুলকানি, শরীরে ব্যথা ও চুলকানি থাকে।
কিভাবে সমস্যা সমাধান করবেনঃ
হাঁপানি রোগীদের যতটা সম্ভব বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
বৃষ্টির মধ্যে বাইরে বের হওয়ার সময় রেইনকোট ও ছাতা ব্যবহার করুন।
ধুলা, কাদা, আবর্জনা, ময়লা, ধোঁয়া ইত্যাদি অ্যালার্জির কারণ হয় এমন জায়গায় যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
এছাড়াও অত্যন্ত গরম বা আর্দ্র পরিবেশ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
ঘরের দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে বা মৃদুভাব থাকলে সেগুলো পরিষ্কার করুন।
ঘরে রাখা কুলার, পাত্র ও এসি ইত্যাদিতে পানি জমতে দেবেন না।
এই দিনগুলি প্রতিদিন বাষ্প নিন এবং হালকা গরম জল দিয়ে গার্গল করুন।
প্রতিদিন যোগব্যায়াম ও ব্যায়াম করুন, পুষ্টিকর খাবারের যত্ন নিন।
হাঁপানি রোগীদের পেট ভরে না খেয়ে কয়েকবার ছোট ও হালকা খাবার খেতে হবে।
রোগীদের বিশেষ করে খুব ঠান্ডা, খুব টক, খুব ভাজা, সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
নিয়মিত ফলোআপের জন্য ডাক্তারের কাছে যান। নির্দেশিত ওষুধ এবং ইনহেলার সময়মত নিন।
হাঁপানি রোগীর শ্বাস যদি হঠাৎ দ্রুত ফুলে যেতে থাকে, অস্থিরতা বেড়ে যায়, অবস্থা হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়, তাহলে রোগীর অ্যাজমা অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হাঁপানির গুরুতর এবং দীর্ঘস্থায়ী আক্রমণকে চিকিৎসা পরিভাষায় স্ট্যাটাস অ্যাজমাটিকাসও বলা হয়। এ অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক, নেবুলাইজেশন এবং ইনজেক্টেবল মেডিসিন দিয়ে তার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রেও ইমিউনাইজেশন (টিকা) কার্যকর। বছরে একবার ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নিতে হয়। নিউমোকোকাল ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পাঁচ বছর স্থায়ী হয়। অ্যাজমা অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে ভ্যাকসিন সহায়ক।
আরও পড়ুনঃ শিশুদের জাঙ্ক ফুডের আসক্তি যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন





