‘ফলাফল যাই হোক, মেনে নিন’: জাতির উদ্দেশে সিইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহারণ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েক প্রহর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন সরকার বেছে নেবে দেশ। এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। ভাষণে তিনি সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি নির্বাচনি ফলাফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখার এবং শান্তি বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
সিইসি তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো জনমতের প্রতিফলন। তিনি বলেন, “নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। জনগণের রায়ের ওপর শ্রদ্ধা রেখে বিজয়ী ও বিজিত—উভয় পক্ষকেই ধৈর্য এবং সংযম প্রদর্শন করতে হবে। কোনোভাবেই যেন নির্বাচনি ফলাফলকে কেন্দ্র করে জনমনে আতঙ্ক বা সহিংসতা ছড়িয়ে না পড়ে।”
এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী ও নিবন্ধিত ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। মাঠ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন তুঙ্গে, তেমনি উত্তেজনার পারদও উর্ধ্বমুখী। সিইসি নাসির উদ্দিন রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, প্রার্থীরা কেবল নিজ দলের নয়, বরং সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। তাই নির্বাচনের মাঠে ও ভোট পরবর্তী সময়ে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা করা তাঁদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তিনি ভোটারদের প্রতিও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্র সরাসরি নজরদারির আওতায় থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন। এখন কেবল অপেক্ষার পালা ভোটদাতাদের। সিইসি তাঁর ভাষণের সমাপ্তি টানেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করে যে, আগামীকালকের নির্বাচন হবে একটি ‘মডেল নির্বাচন’, যা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে নতুন করে উজ্জ্বল করবে।





