প্রবাসীদের প্রথম ভোটাধিকার: ‘পোস্টাল ব্যালট বিডি’ অ্যাপে ঐতিহাসিক মাইলফলক!
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, এবারই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ঐতিহাসিক মাইলস্টোন হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, আইনে থাকলেও আজ পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কখনোই ভোটের আওতায় আনা যায়নি। এবার আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাস থেকে ভোট সংগ্রহ করা হবে, যা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে।
আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং (ওসিভি) বিষয়ে ইউরোপ ও আফ্রিকা অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং এসব অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে অনলাইনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ দূতাবাস, ইউরোপ ও আফ্রিকা অঞ্চল অনলাইনে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এবার প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রশ্ন হচ্ছে কারা ভোট দিতে পারবেন? যারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছেন ভোটার হিসেবে তারা সবাই ভোট দিতে পারবেন। আপনাদের যাদেরই হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র আছে তারা সবাই ভোটার তালিকায় নিঃসন্দেহে অন্তর্ভুক্ত আছেন।
তিনি বলেন, আমরা নিবন্ধনের জন্য একটা মোবাইল অ্যাপ (পোস্টাল ভোট বিডি) আগামী ১৮ নভেম্বর উদ্বোধন করবো। অ্যাপ্লিকেশনটা আপনারা আগামী ১৮ নভেম্বর থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। সেই অ্যাপের মাধ্যমে আপনারা নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে যারা নিবন্ধিত হবেন তাদের প্রদত্ত ঠিকানায় আমরা ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দিব। পরবর্তীতে আপনারা সেই ব্যালটে ভোট দিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফেরত ডাকে এই ব্যালটগুলো প্রেরণ করবেন। এই প্রক্রিয়ায় দূতাবাসগুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এবং ভোটের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্লকচেইন-ভিত্তিক ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
তবে যারা অনলাইনে ভোট দেওয়ার নিবন্ধন করবেন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য তাদের জন্য সতর্কতা হচ্ছে তারা আর সশরীরে ভোট দিতে পারবেন না। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের (ইসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউরোপ ও আফ্রিকা অঞ্চলের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং প্রবাসীরা অনলাইনে অংশ নিয়ে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বিষয়ে মতামত দেন। প্রবাসীরা অ্যাপের সহজতা, ডেডলাইন এবং ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন করেন, যার জবাবে ইসি আশ্বস্ত করে যে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হবে। এই উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলের প্রবাসীরাও পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে, যাতে প্রায় ১ কোটি প্রবাসী ভোটারের অধিকার নিশ্চিত হয়।





