জাতীয় ফিচার

“দেশের ভবিষ্যতের ‘কঠিন পরীক্ষা’ আগামী নির্বাচন”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশ উদার গণতান্ত্রিক শক্তির হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থী ও রাষ্ট্রবিরোধীদের দখলে চলে যাবে। (৪৯ শব্দ)

এই মন্তব্য এসেছে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রাক্কালে, যখন দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং গণভোটের প্রস্তুতির মধ্যে বিএনপি নেতৃত্ব এখন জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি নির্বাচনকে শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যম নয়, বরং দেশের মৌলিক চরিত্র নির্ধারণের লড়াই হিসেবে দেখছেন।

সভায় তিনি বলেন, “আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যে এই দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থী–রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে?” এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বিএনপিকে উদার গণতান্ত্রিক ধারার প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনআন্দোলনের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তাতে বিএনপি এখন নিজেদেরকে স্থিতিশীলতা ও উদারতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

ফখরুল আরও বলেন, যারা নির্বাচন হতে দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছে, তাদের কোনো ভোট নেই। তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধের আহ্বান জানান। এছাড়া জনগণের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, “জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে আমরা আছি। আর যদি বাদ দেয় আমরা বিরোধী দলে থাকব। আগে থেকে এত গলাবাজি কেন?” এই কথায় তিনি নির্বাচনী গণতন্ত্রের প্রতি দলের আস্থা প্রকাশ করেছেন, যা বিএনপির পুরনো নেতৃত্বের সঙ্গে মিলে যায়—যেখানে জনগণের রায়কে সর্বোচ্চ মানা হয়।

বিএনপির এই অবস্থান নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দলটি এখন কেবল ক্ষমতায় ফেরার কথা বলছে না, বরং দেশের আদর্শিক দিক নির্ধারণের দায়িত্ব নিচ্ছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রস্তাব এবং গণভোটকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক চলছে, তাতে বিএনপির এই বক্তব্য প্রতিপক্ষের প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবেও দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এমন ভাষ্য দিয়ে বিএনপি ভোটারদের মধ্যে ভয় ও আশার মিশ্র অনুভূতি তৈরি করতে চাইছে—যাতে তারা উদারপন্থী শক্তির পক্ষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ হয়।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র