অর্থ-বাণিজ্য

সোনার দাম ভরিতে ৪১৯৯ টাকা বাড়লো

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার সন্ধ্যায় ঘোষণা দিয়েছে, প্রতি ভরি সোনার দামে ৪,১৯৯ টাকা বৃদ্ধি—এতে ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য উঠে এসেছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ। এই লাফানোর পিছনে বৈশ্বিক বাজারের উত্তপ্ততা এবং ডলারের দাপট প্রধান, যা স্থানীয় ক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে নিয়েছে না বরং চিন্তার রেখা ঢেলেছে।

এই বৃদ্ধির ঘোষণা এল মাত্র দুই দিন আগে আরেকবারের দামবৃদ্ধির পর। গত শুক্রবার বাজুস ১,০৫০ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করেছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়। কিন্তু বৈশ্বিক বাজারের তীব্র টানে স্থানীয় বাজারও স্থির থাকতে পারেনি। বাজুসের সভাপতি এমদি আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, “তেজাবি সোনার আমদানি খরচ এবং আন্তর্জাতিক মূল্যের উত্থানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এই নতুন হার মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে, যা গহনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

সোনা, যাকে আমরা ‘হলুদ ধন’ বলে ডাকি, সেই সোনাই আজকাল অর্থনীতির থার্মোমিটার হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সোনা শুধু গয়না নয়, বিনিয়োগের নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু এই অসম্ভব লাফানো কেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এবং ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন—যেমন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধারাবাহিকতা বা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা—বিনিয়োগকারীদের সোনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গোল্ডম্যান স্যাক্সের মতো প্রতিষ্ঠান অনুমান করছে, ২০২৬-এর শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪,৯০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ৬ লাখ টাকা।

স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে দ্রুত। ঢাকার নীলক্ষেত বা চট্টগ্রামের গহনা বাজারে ক্রেতারা দ্বিধায় পড়ে গেছেন। একজন ব্যবসায়ী বললেন, “আগে এক ভরি সোনায় যা ১ লাখ টাকা লাগত, আজ তা দ্বিগুণেরও বেশি। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এখন সোনা কেনা স্বপ্নের মতো।” তবে, সোনার দাম বাড়ায় আমদানিকারকদের লাভ হলেও খুচরা ক্রেতাদের ক্ষতি। ২০২৫ সালে সোনার দাম ৬৮ শতাংশ বেড়েছে, যা টাকার মূল্যহ্রাসের সঙ্গে যুক্ত। ডলারের হার ১২২ টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা আমদানি খরচ আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশে সোনার বাজার মূলত অনানুষ্ঠানিক—অনেকটা লুকিয়ে চলা নদীর মতো। বেশিরভাগ সোনা ভারত, মধ্যপ্রাচ্য দিয়ে অবৈধভাবে আসে, যা সরকারের ২০১৮ সালের নীতি সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯টি কোম্পানিকে আমদানির লাইসেন্স দিয়েছে, কিন্তু সেগুলোর অবদান নগণ্য। এই অবস্থায় দামের ওঠানামা আরও অপ্রত্যাশিত হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন ও ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনার রিজার্ভ বাড়ানো এর চাপ সৃষ্টি করছে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

অর্থ-বাণিজ্য ফিচার

“ব্যবসায়ীদের বেশি চাপ দিলে বাজার থেকে চিনি উধাও হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে”

টিপু মুনশি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়তে থাকায়, চিনির দাম কম রাখতে ব্যবসায়ীদের বেশি চাপ দিলে বাজার থেকে চিনি উধাও
অর্থ-বাণিজ্য ফিচার

ঢাকা ও কায়রোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করলো ইজিপ্ট এয়ার

ঢাকা কায়রো রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো মিশরের জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স ইজিপ্ট এয়ার। রবিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে কেক কেটে এর অনুষ্ঠানিক