জাতীয় ফিচার

দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত গড়েছিলেন খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অর্থনৈতিক অবদানকে ‘যুগান্তকারী’ আখ্যা দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৮টি ব্যবসায়ী সংগঠন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসি-বি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা খালেদা জিয়াকে গণতন্ত্রের প্রতীকের পাশাপাশি আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম রূপকার হিসেবে স্মরণ করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত গড়েছিলেন। তাঁর অবিচল নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা এবং যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিখাত ও প্রাইভেট সেক্টরের অনুপ্রেরণাকে ধারণ করে ধনী-দরিদ্র সবাইকে নিয়ে সামগ্রিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “খালেদা জিয়া প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা দূরে রেখে ঐক্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ও কাজকে বাস্তবায়ন করে আমরা শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করব।” এ সময় তিনি কবি আল মাহমুদের ‘তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ’ কবিতা আবৃত্তি করে শোনান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “খালেদা জিয়া প্রাইভেট ও পাবলিক সেক্টরের মধ্যে অনন্য সমন্বয় সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর সময়ে ধনী-দরিদ্র কারো কথা ভুলে যাননি তিনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই করেছেন।”

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “জিয়াউর রহমানের প্রাইভেট সেক্টরের অনুপ্রেরণাকে খালেদা জিয়া ধারণ করে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর ভিশন-২০৩০ এবং ৩১ দফা সংস্কারে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ইউনিক পরিকল্পনা ছিল। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি প্রাইভেট সেক্টরকে আরও গুরুত্ব দেবে।”

স্বাগত বক্তব্যে আইসিসি-বি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব অতুলনীয়। তাঁর নীতিমালা বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি সুদৃঢ় করেছে।”

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “১৯৯১ সালে স্থবির অর্থনীতিকে সচল করতে মুক্ত বাজার, উদ্যোক্তাবান্ধব নীতি, ভ্যাট আইন, ব্যাংক আইন, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গঠনের মাধ্যমে তিনি রাজস্ব, আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করেন। তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।”

বিজিএমইএ’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, “তৈরি পোশাক শিল্পের বিশালত্বের পেছনে খালেদা জিয়ার সরকারের শিল্পবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আমরা তাঁর কাছে বিশেষভাবে ঋণী।”

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “পোশাক শিল্পের প্রসার তাঁর দায়িত্বকালেই হয়েছে। তিনি কম কথা বলতেন, বেশি শুনতেন এবং সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতেন।”

ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির বলেন, “১৯৯৪ সালে ওষুধ শিল্পের জন্য তাঁর সাহসী সিদ্ধান্তের ফলে আজ এ শিল্প এখানে দাঁড়িয়েছে।”

অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। এতে বিএনপির শীর্ষ নেতা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মুক্ত বাজার অর্থনীতি, প্রাইভেট সেক্টরের উন্নয়ন, নারী শিক্ষা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং বৈদেশিক নীতির প্রশংসা করে বলেন, তাঁর সংস্কারসমূহ দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি স্থাপন করেছে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র