ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযান: মাদুরো গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলো বাংলাদেশ
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর ঘটনাবলি—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ঢাকা একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে কূটনীতি ও সংলাপের ওপর জোর দিয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, দেশগুলোর মধ্যে সব ধরনের বিরোধ কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত এবং জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির প্রতি অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।”
প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামে একটি বড় মাত্রার অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মাদুরো দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অভিযানের সাফল্য ঘোষণা করে জানান, মাদুরোকে নার্কো-টেররিজম, মাদক পাচার ও অস্ত্র রাখার অভিযোগে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে বিচার করা হবে। অভিযানে কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে এবং বেশ কিছু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেবে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—চীন, রাশিয়া, ইরানসহ মাদুরোর মিত্র দেশগুলো এটিকে ‘আগ্রাসন’ বলে নিন্দা করেছে, অন্যদিকে কিছু দেশ স্বাগত জানিয়েছে। ভেনেজুয়েলায় এখন অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে উপ-রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ দায়িত্ব নিয়েছেন এবং জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের এই অবস্থান জাতিসংঘ সনদের প্রতি অঙ্গীকার এবং অহিংস কূটনীতির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দেশটির পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।





