ঢাকাসহ সারাদেশে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮ জনের মৃত্যু
গতকালের শক্তিশালী ভূমিকম্প ও তার আফটারশকের আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি ও স্ট্রাকচারাল দুর্বলতার কারণে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক।
রাজধানীর বংশালের কসাইটুলীতে পাঁচতলা একটি ভবনের বারান্দার রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিন পথচারী:
হাজি আব্দুল রহিম (৪৭) ও তার ছেলে মেহরাব হোসেন রিমন (১৩) – বাবা-ছেলে একসঙ্গে বাজারে যাচ্ছিলেন।
সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি (২০) – মায়ের সঙ্গে বাজার করতে গিয়েছিলেন। তার মা নুসরাত জাহান গুরুতর আহত, ঢামেকে লাইফ সাপোর্টে।
এছাড়া নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে প্রাণ হারান নিরাপত্তাকর্মী মাকসুদ (৫০)।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ গোলাকান্দাইলের ইসলামবাগে টিনশেড বাড়ির দেয়াল ধসে মারা যায় মাত্র ১ বছরের শিশু ফাতেমা। আহত মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন।
নরসিংদীতে সদর উপজেলার গাবতলীতে সানশেড ধসে মারা যায় ১০ বছরের শিশু ওমর। বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে ঢামেকে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধ নিহত।
এছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় পুরনো ভবনের পলেস্তারা খসে, সাইনবোর্ড পড়ে, রেলিং ধসে অন্তত ১২০ জনের মতো আহত হয়েছেন। অনেকে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো স্থাপনার কারণেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন – পুরনো ভবনের রেলিং, সানশেড, পলেস্তারা নিয়মিত চেক করা জরুরি।
দেশজুড়ে এখনো আফটারশকের ভয়ে মানুষ খোলা মাঠে রাত কাটাচ্ছে। সরকার জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন চিহ্নিতকরণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে।





