ঢাকায় বেলারুশের দূতাবাস খোলার আহ্বান: কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ
বাংলাদেশে বেলারুশের পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস স্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বেলারুশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর কার্যালয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও বেলারুশের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা জানান, ১৯৯২ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে বেলারুশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বেলারুশ থেকে মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির অন্যতম বৃহৎ দেশ ছিল, যদিও ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে সার আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। উপদেষ্টা বলেন, “আমরা সব দেশের সার আমদানির বকেয়া পরিশোধ করেছি। বেলারুশের বকেয়া পরিশোধের জন্যও যথাযথ প্রক্রিয়া খুঁজে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে বেলারুশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্তমানে ঢাকায় বেলারুশের একটি অনারারি কনস্যুলেট রয়েছে, তবে মূল দূতাবাস নয়াদিল্লিতে অবস্থিত। এর ফলে ভিসা ও কনস্যুলার সেবায় দীর্ঘসূত্রিতা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে। উপদেষ্টা বলেন, “ঢাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস স্থাপন হলে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়বে।” বেলারুশের রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকো এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে বলেন, “দূতাবাস স্থাপন অসম্ভব নয়, তবে এটি বাস্তবায়নে দুই দেশের সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বেলারুশের একজন নাগরিকের মুক্তি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূতের অনুরোধের জবাবে উপদেষ্টা জানান, ওই নাগরিক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তিনি বলেন, “অপরাধী যে দেশেরই হোক, অপরাধী অপরাধীই। তবে বাংলাদেশ এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।” দুই দেশের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিনিময় সংক্রান্ত কোনো চুক্তি না থাকায় এ বিষয়ে অগ্রগতি সীমিত।
বাংলাদেশ ও বেলারুশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে ঢাকায় দূতাবাস স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “বেলারুশ থেকে সার আমদানি পুনরায় চালু করা এবং অন্যান্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।” বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ বেলারুশের অনারারি কনসাল অনিরুদ্ধ কে. রায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান এবং যুগ্মসচিব মু. জসীম উদ্দিন খান।





