ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ কমার নাম নেই। প্রতিদিনই নতুন করে শত শত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন এবং মৃত্যুর খবর আসছে একের পর এক। সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে চলতি বছর মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০২ জনে পৌঁছেছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০৬৯ জন নতুন রোগী, যা বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত শনাক্ত ডেঙ্গু রোগী সংখ্যা ৭৪ হাজার ৯৯২ জনে উন্নীত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কম হলেও শীতকালে এমন প্রকোপ অভূতপূর্ব।
বুধবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে জারি নিয়মিত ডেঙ্গু সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০ জনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৩ জন এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। ডেঙ্গুর মৃত্যুর মধ্যে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে, যা চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তির মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৫১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৫২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২১৯ জন, বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭০ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৮ জন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) প্রত্যেকে ৩৪ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫ জন রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা শহরকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি, যা জনঘনত্ব ও পানি জমে থাকার কারণে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ৯৫৮ জন রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, যা চলতি বছরের মোট ছাড়পত্রপ্রাপ্ত রোগী সংখ্যাকে ৭১ হাজার ৪৮৭ জনে নিয়ে গেছে।
চলতি বছরের (২০২৫) ডেঙ্গু পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় কম হলেও উদ্বেগজনক। ২০২৪ সালে মোট ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ৫৭৫ জন মারা গিয়েছিলেন। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রকোপ দেখা যায়, যখন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের প্রকোপে ডেঙ্গু-৩ স্ট্রেনের প্রাধান্য বেড়েছে, যা আরও জটিলতা সৃষ্টি করছে। সরকারের পক্ষ থেকে মশা নিয়ন্ত্রণে ফগিং, লার্ভিসাইডিং এবং জনসচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে, কিন্তু জলাবদ্ধতা ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনার অভাবে চ্যালেঞ্জ অব্যাহত।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন: ঘরবাড়ি ও চারপাশে জমে থাকা পানি ফেলে দিন, মশারি ব্যবহার করুন, এলইএসআর দ্রবণে রোগীকে হাইড্রেট রাখুন এবং জ্বর দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডেঙ্গু টিকার উপর গবেষণা চলছে এবং আগামী বছর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্যাকসিনেশন শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতর্ক করে বলেছে, শীতকালে মশার প্রজনন কমলেও অবহেলা করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।





