অন্যান্য ফিচার বিশ্ব সংযোগ

ট্রাম্পের আপত্তি অগ্রাহ্য করে মোজতবা খামেনিকে নেতৃত্বে বসাল ইরান

ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য আপত্তি সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তেহরানে ক্ষমতার নতুন সমীকরণ গড়ে উঠল।

ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতা পদটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর অবস্থান। দেশটির সামরিক বাহিনী, বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় নীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব এই পদেই কেন্দ্রীভূত থাকে। তাই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর কে তাঁর উত্তরসূরি হবেন—এ প্রশ্নটি শুরু থেকেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।

ইরানের বিশেষজ্ঞ পর্ষদ (Assembly of Experts) দীর্ঘ বৈঠকের পর মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে অনুমোদন দেয়। এই পরিষদই সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন বা অপসারণের ক্ষমতা রাখে। সূত্র বলছে, তেহরানের কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা কাঠামোর একটি বড় অংশ মোজতবাকে সমর্থন দিয়েছে।

মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার অন্তরালে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনো সরকারি পদে ছিলেন না, তবুও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং রক্ষণশীল ধর্মীয় মহলের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা বহুদিন ধরেই আলোচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমর্থনই শেষ পর্যন্ত তাঁকে সর্বোচ্চ নেতৃত্বে নিয়ে এসেছে।

এ সিদ্ধান্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে প্রকাশ্যে মোজতবা খামেনিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, খামেনির পরিবারের কাউকে নেতৃত্বে বসানো হলে তা ইরানে বংশানুক্রমিক ক্ষমতার জন্ম দেবে, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তবে তেহরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব সেই অবস্থানকে সরাসরি অগ্রাহ্য করেছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইরান এমন একজন নেতাকেই বেছে নিয়েছে যিনি নিরাপত্তা কাঠামোর কাছে গ্রহণযোগ্য এবং কঠোর অবস্থান নিতে সক্ষম।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। সংঘাতের শুরুতেই ইসরায়েলি ও মার্কিন যৌথ হামলায় তেহরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অবকাঠামোর বড় ক্ষতি হয়েছে। সেই হামলাতেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি—যা ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার