জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোট সম্ভব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে থাকলে বিএনপি অথবা জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জুলাই বিপ্লবের সময় যারা এনসিপির সঙ্গে ছিলেন, তাদের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বিএনপি যেহেতু ইতোমধ্যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, তাই তাদের সঙ্গে জোটের কথা অস্বীকার করা যাবে না। এনসিপি জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বিল প্রকাশিত হলে তাতে স্বাক্ষর করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘দেশ বদলাবে নতুন নেতৃত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে যদি বিএনপি অথবা জামায়াত থাকে, তবে তাদের যেকোনো একদলের সঙ্গে জোট হতে পারে। জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নে ৯ দলীয় রাজনৈতিক জোট হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান দলের এই শীর্ষ নেতা। তিনি জানান, এই সনদে সাংবিধানিক সংস্কার, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নয়ন এবং মানবাধিকার রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা জুলাই বিপ্লবের দাবি থেকে উদ্ভূত।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন নিয়ে একটা দল উঠেপড়ে লেগেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত হলো নিজ প্রতীকে নির্বাচন করবে। অনুপাতভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার দাবি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিতর্ক চলছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। জামায়াতের আজকের কর্মসূচির প্রেক্ষিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশ অচল করে দেয়ার মতো কর্মসূচি আমরা দেখতে চাই না। তিনি বিএনপি ও জামায়াতকে দেশকে সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ করে বলেন, রেফারেন্ডামের সময় নিয়ে তাদের অবস্থান দেশে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
এ সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আরও বলেন, সংসদে বিরোধীদল হিসেবে বিএনপি ব্যর্থ। যারা বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ব্যর্থ, তারা কীভাবে সরকারি দল হিসেবে সফল হবে? বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ‘গডফাদার’ সংস্কৃতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, যাদের মনোনয়ন পেয়েও মুখে হাসি নেই এবং অসংখ্য কর্মী এখনও গুম, তাদের সঙ্গে জোট গঠনের ক্ষেত্রে জুলাই সনদের সমর্থনই মূল শর্ত। এই আলোচনা সভায় এনসিপির নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতিশীলতা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





