চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বের নতুন দিগন্ত: বিএনপির চীন সফরে ঐতিহাসিক সমঝোতা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, চীন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আরও গভীর ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। পাঁচ দিনের চীন সফর শেষে সোমবার (৩০ জুন) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, “চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও ঘনিষ্ঠ করার সুযোগ তৈরি করেছে।” তিনি আরও বলেন, “এক চীন নীতির প্রতি বিএনপির দৃঢ় অবস্থানের কথা আমরা জানিয়েছি, যা চীন সরকার আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে।”
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে গত ২২ জুন মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির নয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীন সফরে যায়। বেইজিংয়ে তারা চীনের পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য ও ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান লি হংসং, সিপিসি’র আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও এবং ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার সুং-ওয়ে-ডংয়ের সঙ্গেও আলোচনা হয়।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের জন্য চীনের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছি। চীন জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে দ্রুত প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা করছে।”
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের বিষয়ে চীনের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চীনের মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক। তারা বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায়।”





