জাতীয় ফিচার

গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই: ভারত

ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একের পর এক আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে যাচ্ছেন, যা বাংলাদেশ সরকারের জন্য ‘রাজনৈতিক বোমা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার গত বুধবার (১২ নভেম্বর) ভারতীয় উপ-হাইকমিশনার পবন ভাদেকে তলব করে এই ‘প্রচারণা’ বন্ধের অনুরোধ জানালেও, ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে—তাদের গণমাধ্যম স্বাধীন, সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে: হাসিনার এই ধারাবাহিক ‘লিখিত সাক্ষাৎকার’ কি ভারতের ‘সক্রিয় সহায়তা’ ছাড়া সম্ভব? এতে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে।

গত কয়েক সপ্তাহে রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি, নিউজ১৮, আনন্দবাজার পত্রিকা এবং টাইমস অব ইন্ডিয়ায় হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোতে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়েছেন এবং নিজেকে ‘নির্বাচিত নেতা’ বলে উপস্থাপন করেছেন। বাংলাদেশ এগুলোকে ‘বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে দেখছে, কারণ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও হত্যা মামলায় পলাতক আসামি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক ভারতীয় পক্ষকে জানান, বিচারাধীন এক পলাতক আসামিকে প্ল্যাটফর্ম দেওয়া সংবেদনশীল এবং দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ভারত জবাবে বলেছে—গণমাধ্যম স্বাধীন, সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের এক সূত্র বলেন, “আলোচনা আন্তরিক হয়েছে। বাংলাদেশ উদ্বেগ জানিয়েছে, আমরা অবস্থান স্পষ্ট করেছি।” তারা প্রশ্ন তোলেন, “রয়টার্স বা বিবিসির সাক্ষাৎকারে কেন দূত তলব করা হয়নি? শুধু ভারতকে কেন?”

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম শফিউল্লাহ বলেন, হাসিনা নিরাপত্তাবেষ্টিত ও নজরবন্দি অবস্থায় আছেন—সরাসরি সাক্ষাৎকার সম্ভব নয়। লিখিত সাক্ষাৎকারগুলো ‘ইমেইলে নেওয়া’ এবং আগে থেকে সাজানো, যা ভারতীয় উদ্যোগে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ভারতের জাতীয় নিরাপ্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ‘দুর্বল শাসন’ মন্তব্যের পর হাসিনার ‘মর্যাদা পুনরুদ্ধার’ করতেই এই প্রচারণা। “১৫ বছর হাসিনাকে সমর্থন দেওয়া ভারত এখন সরে আসছে,” বলেন তিনি। হাসিনা কথিত পিআর এজেন্সি নিয়োগ করে মাসে লাখ লাখ টাকা খরচ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারের এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশ না করে) বলেন, হাসিনা ভারতে থাকায় সেখানকার কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ দাবি করছে, আশ্রয় দেওয়া এবং বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া ‘সোনালি অধ্যায়’-এর বিপরীত। শফিউল্লাহ বলেন, “বিচার বাংলাদেশে হওয়া উচিত। ভারতের উচিত হাসিনাকে ফেরত পাঠানো।” এই ইস্যু নির্বাচনের আগে দুই দেশের সম্পর্কে ছায়া ফেলতে পারে, যেখানে ভারত ‘নিরপেক্ষ’ ভূমিকা নেওয়ার চ38 চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার প্রত্যর্পণ চুক্তি সক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রিপোর্টার

About Author

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
জাতীয়

সম্মেলন করে নির্বাচনি প্রচারণার নামার ঘোষণা শামীম ওসমানের

সংবাদ সম্মেলন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সাংসদ শামীম ওসমান। সিটি নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র