ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ (মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটি ও তার সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল (অন্য দুই সদস্য: বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর) এই রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন:
- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম
- সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত
- যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ
- যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল
- ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন
- ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান
সব আসামিই পলাতক এবং তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার হয়।
রায়ের মূল বিষয়
ট্রাইব্যুনাল ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছে। এই সম্পত্তি বিক্রি করে জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এ নিহত ও আহতদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়। এখন পর্যন্ত সাতটি মামলায় মোট ৬৮ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড (শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ওবায়দুল কাদেরসহ)। এর মধ্যে ১৮ জন পলাতক।
মামলার পটভূমি
- ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ।
- ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন।
- ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বিচার শুরু।
- ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট।
- ৪ থেকে ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষে ১৮ আগস্ট রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
- ১৪ সেপ্টেম্বর আজকের দিন ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা শান্তিপূর্ণ ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সরাসরি নির্দেশ, উসকানি, ষড়যন্ত্র ও সমন্বয়ের মাধ্যমে হত্যা, নির্যাতন ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন। প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামিরা ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। এরপর রায় কার্যকরের পথে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।





