“আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে কেউ আর তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে না”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটানা পনের বছর ক্ষমতায় থেকে আজকে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে কেউ আর ওই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে না। বাংলাদেশ সারা বিশ্বে এখন নিজের একটা স্থান করে নিতে পেরেছে। এখন সবাই বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে দেখে।
আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষতা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধও কিন্তু ভিন্ন ভিন্নভাবে হচ্ছে। নতুন নতুন মাত্রায় অপরাধ দেখা দিচ্ছে। সেগুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করার জন্য আমাদের পুলিশ বাহিনী যেন প্রস্তুত থাকে। এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট যত্নবান এবং নজর দিচ্ছি। কারণ, ক্রাইমের সঙ্গে সঙ্গে সেটাকে মোকাবিলা করার সিস্টেমটা যদি না চলে তাহলে কিন্তু যথাযথভাবে সেটা (মোকাবিলা) করা যায় না।
তিনি বলেন, যে কোনো কর্মস্থলে নারী-পুরুষ-শিশু যারাই থাকুক তাদের আপনজন বিবেচনা করে তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের সেবা করবেন, এটাই সবাই চাই।
পুলিশকে ‘জনগণের বন্ধু’ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী এখন মানুষের বন্ধু হিসেবে কাজ করছে। আজকাল মানুষ আগের মতো পুলিশকে ভয় না, মানুষ এখন পুলিশের ওপর আস্থা ফিরে পেয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন পুলিশকে বন্ধু ভাবে, আস্থার জায়গা হিসেবে বিবেচনা করে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই যে আগুন দেওয়া, পুলিশকে মারা, পুলিশকে আগুনের মধ্যে ফেলে দেওয়া, এই ঘটনাগুলোর মামলাগুলো কিন্তু যথাযথভাবে চলে না। আমি মনে করি যারা এ ধরনের ক্রাইম করে তাদের মামলা এবং সাজাটা যদি দ্রুত হয়ে যায় তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন সাহস পাবে না।
তিনি বলেন, আগামীতে কেউ যেন আর এভাবে আক্রমণ করতে না পারে, পুলিশের ওপর হামলা করতে না পারে, রাজনীতির নামে, সন্ত্রাসের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে, মানুষের জানমালের ক্ষতি করতে না পারে, জাতীয় সম্পদের ক্ষতি করতে না পারে, এসব ব্যাপারে পুলিশকে অবিচল থাকতে হবে। যখনই যেটা দরকার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।
টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর আমরা জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি। কাজেই জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা, জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন এটাই আমাদের লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাই। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা দেই এবং প্রতি মেয়াদে নির্বাচনে ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেই।
আরও পড়ুনঃ দেশেই মেডিকেল ডিভাইস তৈরির ব্যাপারে বিভিন্ন কোম্পানিকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর





