“৫ আগস্ট-পরবর্তী অনেক মামলায় নিরীহ মানুষকে ফাঁসানো হয়েছে সুবিধাবাদীদের লোভে”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে কিছু মামলায় ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে সাধারণ ও নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব মামলার পেছনে কিছু সুবিধাবাদী শ্রেণি কাজ করেছে, যা সরকারের নজরে এসেছে। এই অভিযোগ নতুন সরকারের অধীনে বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মন্ত্রী সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যেসব মামলায় সত্যিকারের অপরাধীদের বিচার হওয়া দরকার ছিল, সেগুলোর সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত লাভের জন্য নিরপরাধ মানুষকে জড়ানো হয়েছে। এ ধরনের অপপ্রয়োগ আমরা চিহ্নিত করছি।” মন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো স্বীকার করা হলো যে, গত বছরের ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক মামলায় অপব্যবহার হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুরোনো সরকারের আমলের অনেক মামলা পুনরায় খোলা হয়, নতুন মামলা দায়ের করা হয় এবং বহু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে কিছু মামলা ছিল সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে অভিযোগ ওঠে। নতুন সরকার গঠনের পরও এই ধারা অব্যাহত থাকায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়। সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য এখন সরকারের অভ্যন্তর থেকেই এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করার মতো।
মন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের মামলাগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, যেসব মামলায় নিরপরাধ মানুষকে জড়ানো হয়েছে, সেগুলোর তালিকা তৈরি হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের নির্দোষ প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ সরকারের ‘ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধার’ প্রতিশ্রুতির অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।





