৩ মে থেকে ১৮ লাখ টন ধান-চাল কিনবে সরকার
আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করতে বোরো মৌসুমে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন ধান-চাল ও গম সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আগামী ৩ মে থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রহ অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
অভ্যন্তরীণ মজুত ও কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় বড় উদ্যোগ
বুধবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সভাকক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (FPMC) এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আগামী মৌসুমের খাদ্য সংগ্রহের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটানো এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলাই এই সংগ্রহের মূল লক্ষ্য।
বিগত ১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে আমরা দেখেছি, সংগ্রহ মৌসুমে বাজার দর এবং সরকারি দরের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে এবারও ধান ও চালের ক্রয়মূল্য আগের মতোই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে খোলা বাজারে দরের অস্থিরতা কমবে এবং প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে পণ্য বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ও দরদামের বিস্তারিত
এবারের সংগ্রহ অভিযানে চালের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্যশস্যের মধ্যে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
দামের ক্ষেত্রে সরকার এবারও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে কেনা হবে। অন্যদিকে, প্রতি কেজি সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতেই এই লক্ষ্যমাত্রা ও দর চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এক নজরে ২০২৬ সংগ্রহের মূল তথ্যসমূহ
আসন্ন বোরো মৌসুমের সংগ্রহ অভিযানের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
-
সময়সীমা: ৩ মে ২০২৬ থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত।
-
ধানের দর: প্রতি কেজি ৩৬ টাকা (৫ লাখ টনের লক্ষ্যমাত্রা)।
-
সিদ্ধ চাল: প্রতি কেজি ৪৯ টাকা (১২ লাখ টনের লক্ষ্যমাত্রা)।
-
আতপ চাল: প্রতি কেজি ৪৮ টাকা (১ লাখ টনের লক্ষ্যমাত্রা)।
-
গম সংগ্রহ: ৫০ হাজার টন (প্রতি কেজি দর বাজার অনুযায়ী)।
-
মোট লক্ষ্যমাত্রা: ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্যশস্য।
গমের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
তবে গম সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছুটা আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কম হওয়া এবং কৃষকদের অনাগ্রহের কারণে অতীতে গম সংগ্রহে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যায়নি। তবুও খাদ্য বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে এবার ৫০ হাজার টনের একটি লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গমের ফলন ব্যাহত হওয়ায় কৃষকরা এখন ধান চাষেই বেশি ঝুঁকছেন। ফলে সরকারিভাবে গম সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমানোর জন্য স্থানীয় পর্যায়ে আরও প্রণোদনার প্রয়োজন হতে পারে।





