৩৫ বছর পর ফের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণার পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় পর আবারও রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তার আগে মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হতে হবে।
রোববার ১১ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জোটের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হলেও রাষ্ট্রপতি পদে শেষ পর্যন্ত কাকে প্রার্থী করা হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দলের কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—অলি আহমদ কি বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন?
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ভোটের অঙ্কে ক্ষমতাসীন দলই এগিয়ে রয়েছে। ফলে বিএনপির সমর্থন ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর জয় পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত।
তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হলে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব আলাদা। কারণ ১৯৯১ সালের পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে আবারও একাধিক প্রার্থীর মধ্যে ভোট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন এর আগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালে।
সেবার বিএনপি সমর্থিত আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী।
এরপর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়নি। একক প্রার্থী থাকায় পরবর্তী সব রাষ্ট্রপতিই বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
এবার ১১ দলীয় জোট প্রার্থী দেওয়ায় সেই ধারায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হয়। বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেই এই অন্তর্বর্তী পরিস্থিতির অবসান হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বর্তমান পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর ১৬ আগস্ট হবে যাচাই-বাছাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট।
ফলে অলি আহমদের পাশাপাশি বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন এবং শেষ পর্যন্ত কতজনের মনোনয়ন বৈধ থাকছে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনে।
রাষ্ট্রপতি পদে শেষ পর্যন্ত যদি একজন প্রার্থীই বৈধ থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণ হবে না। নির্বাচন কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে।
অন্যদিকে একাধিক প্রার্থী বৈধ থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী ২০ আগস্টই নির্ধারণ করবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন এই নির্বাচনে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সব মিলিয়ে, মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় যত এগিয়ে আসছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও ততই স্পষ্ট হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত লড়াইটি আদৌ ভোট পর্যন্ত গড়ায় কি না—আর গড়ালে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিপরীতে বিরোধী জোট কতটা রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারে।





