স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল উন্নয়ন রুখতে এক হয়েছে: ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী
দেশের চলমান উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচারী শক্তি এবং গুপ্ত দলগুলো নতুন করে একজোট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি বিশেষ অপশক্তি পেছন থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অতীতের স্বৈরাচারী শাসক এবং পর্দার আড়ালে থাকা বিভিন্ন গুপ্ত চক্র এখন একই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কলুষিত করার চক্রান্তে লিপ্ত।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ যখন দীর্ঘসংগ্রামের পর একটি সুশাসিত ও স্থিতিশীল পরিবেশ পেয়েছে, তখন এই চক্রটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নানা ধরণের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। জনগণের সমর্থনই সরকারের আসল শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের অগ্রযাত্রাকে থমকে দিতে পারবে না।
ফুলগাজীর ঐতিহাসিক এ মাঠে স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ অঞ্চলটি জিয়া পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত এবং ভৌগোলিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি রাষ্ট্রের কল্যাণ পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সময়োপযোগী পদক্ষেপ উন্মোচন করা হয়।
কৃষি খাতের সার্বিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের হাত সুদৃঢ় করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই সাথে, সামাজিকভাবে সুসংহত ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ বজায় রাখতে ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সরকারি সম্মানীর আওতায় নিয়ে আসার এই উদ্যোগকে স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপকভাবে সাধুবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের কাছে বাংলাদেশ মাথা নত করবে না। রাষ্ট্রের সর্বত্র শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যেমন সরকারের, তেমনই রাজনৈতিক সচেতনতা বজায় রাখা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য।
তিনি সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণকে আহ্বান জানান যেন তারা কোনো প্রকার উসকানিতে কান না দেন। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধশালী ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে একসাথে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।





