সিদ্ধান্তে পরিবর্তন: ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট ও শপিংমল
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আগে সন্ধ্যা ছয়টায় শপিংমল ও দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত থাকলেও তা পুনর্বিবেচনা করে এখন সাতটা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার।
রোববার সচিবালয়ে এ তথ্য জানান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার আগে একটি কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে বাস্তবতা ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা জরুরি। তাই সিদ্ধান্তটি এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।”
ব্যবসায়ী মহলে এই সিদ্ধান্তকে স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সন্ধ্যার পরের সময়টাই তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কর্মজীবী মানুষেরা সাধারণত অফিস শেষে বাজার বা কেনাকাটায় বের হন, ফলে সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো তাদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে দোকান বন্ধ করলে বিক্রিতে বড় ধরনের ক্ষতি হতো। তারা সরকারের এই পুনর্বিবেচনাকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তারা বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী আচরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো হলেও সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়ী মনোভাব বজায় রাখা জরুরি। তাদের মতে, শুধুমাত্র সময় নির্ধারণ নয়, বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় আলো-বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতেও পরিবর্তন হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে সাধারণ ক্রেতারাও নতুন সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলছেন, সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সময় থাকলে কেনাকাটা করা সহজ হবে এবং দৈনন্দিন জীবনের ছন্দও বজায় থাকবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- দোকানপাট ও শপিং মল এখন সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে
- আগে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ
- ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কারণে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে
- ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত আবার পরিবর্তন হতে পারে
জ্বালানি সংকটের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণে ভারসাম্য রাখা বড় পরীক্ষা। একদিকে সাশ্রয়, অন্যদিকে অর্থনীতির গতিশীলতা—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করেই সরকারকে এগোতে হচ্ছে।





